ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল বৃহস্পতিবার তার প্রচারসভায় মন্তব্য করেন, "আমরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা নয়, অধ্যয়নের পরিবেশ চাই।" আজ শুক্রবার সেই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
তৃণমূল কংগ্রেসের হাওড়ার নির্বাচনী জনসভায় মিজ. ব্যানার্জী বলেন, "একজন প্রধানমন্ত্রী আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, আমি মনে করি ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। … বলছেন ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে।"
মুখ্যমন্ত্রী মি. মোদীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কি কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে?
পরবর্তীতে মিজ. ব্যানার্জী তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ গণতন্ত্রের পতন ঘটায় না — এটি গণতন্ত্রেরই একটি চলমান প্রক্রিয়া। দয়া করে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে বদনাম করবেন না, যা শ্রী অরবিন্দসহ আমাদের প্রথম দিকের জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। দয়া করে বাংলাকে বদনাম করবেন না।"
গতকাল মি. মোদী তার প্রচারসভায় বলেন, "এক সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সারা বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হতো। … কিন্তু আজ এখানকার পরিস্থিতি দেখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে হুমকি দেওয়া হয়। দেয়ালে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা অধ্যয়নের পরিবর্তে রাস্তায় প্রতিবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন।"
তিনি আরও বলেন, বিজেপি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা নয়, অধ্যয়নের পরিবেশ চায়; হুমকি নয়, সংলাপ চায়।
"যে সরকার নিজের রাজ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে পারেনি, সে পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ কীভাবে রক্ষা করবে?"
তার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমাদের ছাত্রছাত্রীরা, যুবক-যুবতীরা, ভাই-বোনেরা আমাদের গর্ব।"
সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর এই বাগযুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গের পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে শুক্রবার প্রচারসভা করেন মি. মোদী। এই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন রত্না দেবনাথ, যার কন্যা ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন। প্রচারসভায় মি. মোদীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিজেপির সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিজেপি নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের আদর্শে চলে। যে মা নিজের মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন, যাঁর মেয়েকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাজঙ্গলরাজ ছিনিয়ে নিয়েছে, বিজেপি সেই মাকে দলের প্রার্থী বানিয়েছে। বিজেপি সন্দেশখালির বোনেদেরও নেতৃত্বের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এই বোনেদের গালি দিতে ব্যস্ত।"
বিজেপির শীর্ষ নেতা মি. মোদী শুক্রবার অভিযোগ করেন, "তৃণমূল কংগ্রেস একটি মহিলাবিরোধী দল। … যখন পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরা ন্যায়বিচারের দাবি করে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্মম সরকার তাদের একটাই কথা বলে — ধর্ষণ থেকে বাঁচতে, বেঁচে থাকতে হলে বাড়ি থেকে বেরোবেন না।"
"বিজেপি মেয়েদের স্বপ্ন ধ্বংস হতে দেবে না। পশ্চিমবঙ্গের বোনদের তাঁদের ভাই আশ্বাস দিচ্ছে — বোনেদের সুরক্ষা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ৪ তারিখ বিজেপি সরকার গঠনের পর নারীদের উপর হওয়া সমস্ত অন্যায়-অত্যাচারের ফাইল খোলা হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।"
অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে মিজ ব্যানার্জীর অভিযোগ, “যেই দল নারীদের অত্যাচার করছে, ধর্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী করে, তারা বলছে পশ্চিমবঙ্গে জ্বলছে। … ৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফলে আমরা দেখে নেব।”