ফখরুদ্দীন সরকারের প্রত্ন কেলেঙ্কারি: ফ্রান্সে প্রত্নসম্পদ পাঠানো ঘিরে ২০০৭ সালে যা ঘটেছিল

প্রত্ন কেলেঙ্কারি ঘিরে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল ফখরুদ্দীন আহমেদের সরকার

ছবির উৎস, JEWEL SAMAD/AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রত্ন কেলেঙ্কারি ঘিরে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার
    • Author, তারেকুজ্জামান শিমুল
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ১১ মিনিট

ঘটনাটি ঘটেছিল এখন থেকে প্রায় দুই দশক আগে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় তখন ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই সেনা সমর্থিত ওই সরকার দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নামে বড় বড় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী এবং আমলাকে গ্রেফতার করে জেলে ভরতে শুরু করে।

এর মধ্যে জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সভাপিত শেখ হাসিনা এবং সেপ্টেম্বরে বিএনপি'র তৎকালীন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের খবরে সারা দেশে রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

রাজনৈতিক এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে আবার উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় 'সিডর'। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই ঘূর্ণিঝড়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূল অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার।

একের পর এক এসব ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের নজর যখন অন্যদিকে ব্যস্ত, তখন শিল্পী ও সমালোচকদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে 'অনেকটা চুপিসারেই' তিন ডজনেরও বেশি প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনীতে পাঠিয়েছিল ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার।

গুরুত্বপূর্ণ ওইসব প্রত্ননিদর্শন যে প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছিল, সেটি নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া প্রদর্শনী শেষে সেগুলো অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরবে কি-না বা ফিরলেও রেপ্লিকা বা নকল প্রত্ননিদর্শন পাঠানো হয় কি-না, সেটা নিয়েও অনেকের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো।

এর মধ্যেই দ্বিতীয় চালানে আরও বেশকিছু প্রত্নসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর সময় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো দু'টি বিষ্ণুমূর্তি চুরি হয়ে যায়।

এ ঘটনার পর প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হলে কয়েক মাসের মধ্যে ফ্রান্স থেকে প্রত্ননিদর্শনগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সমালোচনার মুখে একপর্যায়ে পদত্যাগ করেন তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী।

এ ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ফ্রান্সফেরত পুরাকীর্তিগুলো সব আসল কি-না, সেটি নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

ফলে ১৪ বছর পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।

বগুড়ার মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর থেকে ফ্রান্সে পাঠানো প্রত্ননিদর্শনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

"এই কমিটি সরেজমিনে গিয়ে প্রত্ননিদর্শনগুলো কী অবস্থায় আছে এবং সেগুলোর সব অরিজিনাল কি-না, বা কোনো রেপ্লিকা এসেছিল কি-না, সেটি তারা তদন্ত করে দেখে প্রতিবেদন জমা দিবে," বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. আলম।

কিন্তু ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারের সময় ফ্রান্সে প্রত্ননিদর্শন পাঠানো ঘিরে ঠিক কী কী ঘটনা ঘটেছিল?

২০০৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর প্রকাশিক দৈনিক জনগণ্ঠ পত্রিকায় তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টার পদত্যাগের খবর

ছবির উৎস, Songramer Notebook

ছবির ক্যাপশান, ২০০৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর প্রকাশিক দৈনিক জনগণ্ঠ পত্রিকায় তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টার পদত্যাগের খবর

চুক্তি সই

গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক স্থান মহাস্থানগড়ের খননকাজের সঙ্গে যুক্ত হন ফরাসি কয়েকজন প্রত্নতত্ত্ববিদ।

মহাস্থানগড়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাপ্ত পুরাকীর্তিগুলো নিয়ে তারা ফ্রান্সে একটি প্রদর্শনী করতে শুরু থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন বলে জানান কর্মকর্তারা।

সেই ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুরাকীর্তি চেয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায় ঢাকায় অবস্থিত ফারাসি দূতাবাস।

মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সম্মতি দিলে দু'পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২০০৭ সালের ৩১শে জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে তৎকালীন সচিব এবিএম আবদুল হক চৌধুরী এবং গিমে জাদুঘরের পক্ষে তখন ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাক আংগ্রি কস্টিলেস সই করেন বলে তখনকার পত্রপত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।

২০০৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথমপাতায় ফ্রান্সে প্রত্নসম্পদ পাঠানোর খবর

ছবির উৎস, Songramer Notebook

ছবির ক্যাপশান, ২০০৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথমপাতায় ফ্রান্সে প্রত্নসম্পদ পাঠানোর খবর

হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ওই চুক্তি অনুযায়ী ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, বগুড়ার মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, নওগাঁর পাহাড়পুর জাদুঘর এবং কুমিল্লার ময়নামতি জাদুঘর থেকে প্রায় ১৮৭টি প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে ফ্রান্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

সেগুলোর মধ্যে প্রাচীন মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন শাসনকালের বিভিন্ন আকৃতির মূর্তি, শিলালিপি, মুদ্রা, পোড়ামাটি এবং তামার ফলক ছিল বলে সেসময়ের গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এসব পুরার্কীতি প্রদর্শনীর জন্য বিদেশে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন তখনকার শিল্পী, শিল্প সমালোচক, সংস্কৃতিকর্মীসহ অনেকে।

ফ্রান্সের সঙ্গে করা চুক্তির স্বচ্ছতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদনও করেন তারা।

সেইসঙ্গে, প্রত্নসম্পদগুলো পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঢাকা ও রাজশাহীতে একাধিক মামলাও করা হয়।

রিট আবেদনের শুনানিতে জাতীয় সম্পদ বিদেশে পাঠানোর ঝুঁকি তুলে ধরা হলে প্রত্ননিদর্শনগুলো ফ্রান্সে পাঠানোর সিদ্ধান্তের ওপর দু'মাসের স্থগিতাদেশ দেয় হাই কোর্ট।

সেইসঙ্গে, ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব এবং ঢাকাস্থ ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে এর জবাব দিতে বলা হয়।

ঢাকায় যখন এসব ঘটনা ঘটছে, তখন বাংলাদেশের পুরাকীর্তিগুলো দেখানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল গিমে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু সেগুলো পাঠানোর বিষয়ে হাই কোর্ট স্থগিতাদেশ দেওয়ায় প্রদর্শনীটি শেষ পর্যন্ত না হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জ্যাক আংগ্রি কস্টিলেস।

২০০৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রকাশিত দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথমপাতায় ফ্রান্সে প্রত্নসম্পদ পাঠানো ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর

ছবির উৎস, Songramer Notebook

ছবির ক্যাপশান, ২০০৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রকাশিত দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথমপাতায় ফ্রান্সে প্রত্নসম্পদ পাঠানো ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর

বিশেষ কমিটি গঠন

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে একের পর এক বাধা আসতে থাকায় এক পর্যায়ে বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার।

যারা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্য ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান খান।

'যে কারণে প্রত্নসম্পদ বিদেশ পাঠানোয় বিরোধিতা' শিরোনামে ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি লিখেছেন যে, বৈঠকটি তারা করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে। যদিও শেষপর্যন্ত সেটি ঘটেনি।

"সরকারের কোন শক্তিশালী মহলের ক্ষমতার দাপটে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত নীরব থাকলেন আমরা সে রহস্যের খবর জানি না। আমরা আইন-বিশেষজ্ঞ, জাদুঘরবিদ, প্রত্নতত্ত্বের নবীন-প্রবীন বিশেষজ্ঞের সাতজনের একটি দল প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ প্রার্থনা করি। প্রধান উপদেষ্টা নন; তার সচিব কাজী আমিন, জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেন," লিখেছেন অধ্যাপক খান।

ওই বৈঠকে ফ্রান্সের সঙ্গে করা চুক্তির অসমতা ও অস্বচ্ছতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়। প্রত্ননিদর্শনগুলোর যে দেশে ফিরে নাও আসতে পারে বা আসলেও নকলটি আসতে পারে, সেই শঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জাতীয় জাদুঘরের সাবেক এই মহাপরিচালকের নিবন্ধ থেকে জানা যাচ্ছে।

"(সংস্কৃতি) সচিব বিষয়টি উপলব্ধি করে বা সাময়িক ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কৌশল হিসাবে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়ে সভা শেষ করেন," লিখেছেন অধ্যাপক খান।

পরে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন। কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেই কমিটির কাজে সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

"প্রস্তাব অনুযায়ী চুক্তি সংশোধন, প্রত্নসামগ্রী পরীক্ষা, ভুক্তি নম্বর পরীক্ষা, আইডেনটিটি নম্বর পরীক্ষণ ইত্যাদি করতে দেয়নি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং জাদুঘরের অসাধু ও কোনো না কোনো স্বার্থপ্রণোদিত কর্মকর্তারা। সরকারি আদেশ নির্দেশ প্রজ্ঞাপন ও ফাইল কমিটিকে দেখতে দেয়া হয়নি," লিখেছেন জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক খান।

ডেইলি স্টারে মূর্তি চুরির খবর

ছবির উৎস, Songramer Notebook

ছবির ক্যাপশান, দ্বিতীয় চালানে ১৪৫টি প্রত্নসম্পদ ফ্রান্সে পাঠানোর সময় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে চুরি হয়ে যায় দু'টি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি

উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি

বিদেশে পুরাকীর্তি পাঠানোর চুক্তিকে 'অসময় ও অসচ্ছ' আখ্যা দিয়ে সেটার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন বাংলাদেশের তখনকার প্রায় দুই ডজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

সেখানে বলা হয়, ১৮৭টি প্রত্ননিদর্শনের নিরাপত্তা বীমা হিসেবে চুক্তিতে যে মাত্র ১০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি একটি 'অবিশ্বাস্য আর্থিক জালিয়াতি'।

প্রত্ননিদর্শনগুলো বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ উল্লেখ করে তারা শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্রান্সে আনা-নেওয়ার পথে সেগুলো চুরি হতে পারে বা বিমান দুর্ঘটনায় 'চিরতরে নিঃশেষ' হয়ে যাতে পারে।

ফলে ওই ঝুঁকি নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে 'দোষী হিসেবে চিহ্নিত' না হওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিবৃতিতে যারা সই করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক অজয় রায়, অধ্যাপক খান সারওয়ার মোর্শেদ, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক মুস্তফা নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন, অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক নওশাবা খাতুন।

আরও সই করেছিলেন কবি বেলাল চৌধুরী, চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, সঙ্গীতশিল্পী কলিম শরাফী, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সনজিদা খাতুন, সাংবাদিক কামাল লোহানী এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা।

নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

ছবির উৎস, Majority World/Universal Images Group via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নওগাঁর পাহাড়পুর জাদুঘর থেকেও প্রত্ননিদর্শন নেওয়া হয়েছিল ফ্রান্সে পাঠানোর জন্য

রাতের অন্ধকারে তোলা হয় বিমানে

প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানোর সিদ্ধান্তের ওপর হাই কোর্ট স্থগিতাদেশ দিলে সেটার বিরদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্ট।

তবে অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রমও তখনও চলমান ছিল।

এর মধ্যেই প্রত্ননিদর্শনের প্রথম চালান পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সরকার।

পরিকল্পনা করা হয় ওই বছরের ১৩ই অক্টোবর সকালে সেগুলো ফ্রান্সে পাঠানো হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ঢাকার তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চিঠিও পাঠিয়েছিল বলে সেসময়ের পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু শিল্পী, সমালোচক, সংস্কৃতিকর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে শেষপর্যন্ত ওইদিন প্রত্ননিদর্শনগুলো পাঠানো সম্ভব হয়নি।

পরে সেগুলো বিমানবন্দরে নেওয়া হয় ৩০শে নভেম্বর ছুটির দিনে। এরপর রাতের অন্ধকারে তোলা হয় ফরাসি কার্গো বিমানে।

প্রথম ওই চালানে মোট ৪২টি প্রাচীন প্রত্নসম্পদ ঢাকা থেকে ফ্রান্সে নেওয়া হয় বলে তখনকার পত্র-পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর প্রকাশিক দৈনিক জনগণ্ঠ পত্রিকার খবর

ছবির উৎস, Songramer Notebook

ছবির ক্যাপশান, ২০০৭ সালের ২৮শে ডিসেম্বর প্রকাশিক দৈনিক জনগণ্ঠ পত্রিকার খবর

প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

প্রত্ননিদর্শনগুলো বিমানবন্দরে নেওয়ার জন্য ছুটির দিন শুক্রবারকে বেছে নিয়েছিল তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

৩০শে নভেম্বর সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের ভেতরে পুরাকীর্তিগুলো বাক্সবন্দি করা হতে থাকে।

এর মধ্যেই খবর পেয়ে জাদুঘরের বাইরের রাস্তায় অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ আরও নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জাদুঘর থেকে বের হওয়ার মূল ফটক আটকে তারা প্রত্নসম্পদ বিদেশে পাঠানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

সেসময় তাদের হাতে যেসব ব্যানার ও প্লাকার্ড ছিল, সেখানে 'দেশের প্রত্নসম্পদ পাচার বন্ধ করুন', 'গোপনে প্রত্নসম্পদ পাচার করা হচ্ছে' ইত্যাদি নানান বাক্য লেখা ছিল।

বিকেলে পুরাকীর্তিভরা বাক্সগুলো কাভার্ডভ্যানে তোলা হয়। এসময় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসলে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি বলে সেসময়ের গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়ায় প্রত্নসম্পদ পরিবহনকারী গাড়িও বের হতে পারছিল না।

ফলে তাদেরকে সরানোর জন্য এগিয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এসময় একজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পুরাকীর্তিগুলো নেওয়া হয় ঢাকার তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যা বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে পরিচিত।

রাতে সেগুলো কার্গো বিমানে তুলে পরদিন পহেলা ডিসেম্বর সকালে ফ্রান্সে পাঠানো হয় বলে তখনকার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।

চুরি যাওয়া বিষ্ণুমূর্তি দু'টি ছিল বগুড়ার মহাস্থানগড়ের

ছবির উৎস, Majority World/Universal Images Group via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চুরি যাওয়া বিষ্ণুমূর্তি দু'টি ছিল বগুড়ার মহাস্থানগড়ের

বিমানবন্দর থেকে মূর্তি চুরি

প্রথম চালান পাঠানোর তিন সপ্তাহের মাথায় প্রত্নসম্পদের দ্বিতীয় চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করে তৎকালীন সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১শে ডিসেম্বর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর থেকে কাভার্ডভ্যানে করে পুরাকীর্তিভর্তি ১৩টি বাক্স নেওয়া হয় ঢাকার বিমানবন্দরে। সেগুলোর মধ্যে ছিল প্রাচীন মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন আমলের ১৪৫টি প্রত্ননিদর্শন।

বাক্সগুলো কার্গো বিমানে তোলার পর তালিকার সঙ্গে পুনরায় মিলিয়ে দেখতে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখেন একটি বাক্স কম। সেটার মধ্যে প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো দু'টি বিষ্ণুমূর্তি ছিল বলে জানান তারা।

পরে বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে কিছুটা দূরে একটি জলাশয়ের ভেতর বাক্সটি পাওয়া গেলেও সেটার মধ্যে মূর্তিগুলো ছিল না।

এ ঘটনার পর সারা দেশে রীতিমত তোলপাড় পড়ে যায়। যাত্রা বাতিল করে জাদুঘরে ফেতর পাঠানো হয় দ্বিতীয় চালানের বাকি ১৪৩টি পুরাকীর্তি।

তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী দাবি করেন, ফ্রান্সের কার্গো বিমানে তোলার পর মূর্তি দু'টি চুরি গেছে।

"আমাদের কর্মকর্তারা এয়ার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্ননিদর্শনগুলো হস্তান্তর করার পরেই এই ঘটনা ঘটেছে," তখন সাংবাদিকদের বলেন উপদেষ্টা।

এদিকে, বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স থেকে প্রত্নসম্পদ চুরি যাওয়ার ঘটনাকে 'অত্যন্ত সন্দেহজনক' মন্তব্য করে ঢাকায় অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

চুরির ঘটনায় ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেইসঙ্গে, ঘটনাটি তদন্তে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিষ্ণুমূর্তি

ছবির উৎস, Heritage Art/Heritage Images via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চুরি হওয়া বিষ্ণুমূর্তি দু'টি ছিল দেড় হাজার বছরের পুরোনো

ময়লাখানা থেকে খণ্ডিত অংশ উদ্ধার

চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তদন্তে নামেন র‍্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বিমানবন্দরের কর্মীসহ ডজনখানেক ব্যক্তিকে আটক করে চলতে থাকে জিজ্ঞাসাবাদ।

একপর্যায়ে মূর্তি চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে র‍্যাব, যাদের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দু'জন গাড়িচালক এবং একজন সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন বলে জানানো হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে সাভারের একটি ময়লাখানায় তল্লাশি চালানো হয়। দিনভর অনুসন্ধানের পর সপ্তম শতাব্দীর ওই মূর্তিগুলোর প্রায় ২৯টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

র‍্যাব জানায়, চুরির পর মনির নামে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন গাড়িচালক মূর্তিগুলো চক্রের মূলহোতা আব্বাসের কাছে নিয়ে যান। সেগুলো নকল ভেবে ভেঙে ফেলার পর তিনি বাড়ির পাশের একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

পরে সিটি কর্পোরেশনের ময়লারগাড়ি তুলে নিয়ে সেগুলো সাভারের বলিয়ারপুরের ময়লাখানায় ফেলে।

কুমিল্লার ময়নামতি

ছবির উৎস, Giovanni Mereghetti/Education Images/Universal Images Group via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কুমিল্লার ময়নামতি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

সংস্কৃতি উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

বিমানবন্দর থেকে প্রাচীন প্রত্ননিদর্শন চুরির ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন।

'প্রত্ন কেলেঙ্কারি' উল্লেখ করে ঘটনাটিকে ফখরুদ্দীন সরকারের 'সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক বিপর্যয়' বলে বর্ণনা করেন তারা।

"আমাদের সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে," চুরির ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রদর্শনীর জন্য প্রথম চালানে যেসব প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

সেইসঙ্গে, চুরির ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরীর পদত্যাগের দাবি জানান তারা।

বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জনগণের বিরোধিতা উপেক্ষা করে ফ্রান্সে প্রত্নসম্পদ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে, সেটির দায় ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি'র তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের একটি টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্পকর্ম

ছবির উৎস, Majority World/Universal Images Group via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের একটি টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্পকর্ম

আইয়ুব কাদরীর পদত্যাগ

মূর্তি চুরির ঘটনা ঘিরে বিক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে শেষমেশ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন তত্ত্বাধায়ক সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা আইয়ুব কাদরী।

২৬শে ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলে পরদিন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সেটি গ্রহণ করেন। নৈতিক কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন মি. কাদরী।

পদত্যাগের এই ঘটনাকে 'দুঃখজনক' বলে বর্ণনা করেন প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদসহ উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যরা।

তবে ওই ঘটনার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছিলেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা মইনূল হোসেন। তিনি বলেছিলেন, গণমাধ্যম সংস্কৃতি উপদেষ্টাকে 'বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার কারণে মানসিক চাপের মুখে' তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মি. কাদরীর পদত্যাগ করলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান রাশেদা কে চৌধুরী।

২০০৮ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার খবর

ছবির উৎস, Songramer Notebook

ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্সে পাঠানোর তিন মাসের মাথায় পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ৪২টি প্রাচীন প্রত্ননিদর্শন

অবশেষে দেশে ফেরে ৪২ পুরাকীর্তি

বিমানবন্দর থেকে বিষ্ণুমূর্তি চুরির ঘটনার দুই মাসের মাথায় ফ্রান্সের সঙ্গে প্রদর্শনীর চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় প্রথম চালানে পাঠানো ৪২টি প্রত্ননিদর্শন।

২০০৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ভোরে প্রত্নসম্পদবাহী কার্গোবিমানটি ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ঢাকাস্থ ফরাসি দূতাবাসের কর্মকর্তারা পুরাকীর্তিভরা ১০টি বাক্স হস্তান্তর করেন নতুন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মিজ চৌধুরীর কাছে।

এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় সেগুলো স্ব স্ব জাদুঘরে ফেরত পাঠানো হয়।

"সেগুলোর মধ্যে কিছু প্রত্ননিদর্শন এখনও মহাস্থান জাদুঘরে বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা সম্প্রতি একটি মিটিংয়ে আমাকে জানান। এরপরেই তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি, যাতে তারা বাক্সগুলো খুলে প্রত্ননিদর্শনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে," বিবিসি বাংলাকে বলেন বগুড়ার সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।