বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ভরাডুবির পর নিজের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের ভেতরে ও বাইরে ওঠা সমালোচনার মুখে তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে, যারা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে ‘সন্দেহ’ পোষণ করছেন, তিনি তাঁদের ভুল প্রমাণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, তাঁর সরকার কিছু ভুল করেছে। তিনি বলেন, “অন্য সব সরকারের মতো আমরাও কিছু ভুল করেছি... কিন্তু রাজনীতির বড় বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমরা সঠিক পথেই ছিলাম।”
নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে স্টারমার জানান, লেবার পার্টির এই হার তাঁর জন্য বেশ বেদনাদায়ক। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি মানুষের আবেগ বুঝতে পারছি এবং নিজেও তা অনুভব করছি।”
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার সরকারের সাফল্য এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বলেছেন, "অবশ্যই, অন্য সব সরকারের মতো আমরাও ভুল করেছি।"
"তবে আমরা বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নিতে পেরেছি। আমি বলতে চাচ্ছি, আমরা যদি অন্য দলগুলোর পরামর্শ শুনতাম, তবে এই মুহূর্তে আমরা ইরানের সাথে একটি অচলাবস্থায় আটকে থাকতাম এবং এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তাম যা আমাদের স্বার্থে নেই আর আমি কখনোই তা হতে দেব না।"
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর লেবার পার্টির ভেতর থেকেই এখন নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি উঠছে।
অন্যদিকে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার সরাসরি স্টারমারকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান কর্মপন্থা মোটেও “কাজে দিচ্ছে না”। দলের পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি অ্যান্ডি বার্নামকে পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন।
দলের কোনো সংসদ সদস্য যদি তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ বা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, তবে কি তিনি লড়াই করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি মাঠ ছেড়ে যাব না।”
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বারবার এই একই অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট তাঁর দলের মন্ত্রিসভাকে এক চূড়ান্ত সময়সীমা বা আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার কেউ যদি স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ না করেন, তবে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবেন।
নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্টারমার আরও বলেন, ব্রিটেন একটি “যৌক্তিক, সহনশীল এবং মার্জিত দেশ” এবং “এই ব্রিটেনের জন্যই আমি লড়াই চালিয়ে যাব।”