কোন কোন মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন গবেষকরা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে বলে সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। শুধু মাছের পাকস্থলী বা পরিপাকতন্ত্রেই নয়, মাছের মাংসপেশিতেও অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকের এমন যে-কোনো কণা, যার প্রস্থ পাঁচ মিলিমিটারেরও কম।
বড় প্লাস্টিক ভেঙে, সিনথেটিক কাপড়ের তন্তু, টায়ারের ক্ষয়, প্রসাধনী বা শিল্পবর্জ্য থেকে এসব কণা তৈরি হয়ে নদী, খাল, হ্রদ ও সাগরে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে খাদ্য ও পানির মাধ্যমে এগুলো মাছের শরীরে প্রবেশ করে।
গবেষকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের পরিপাকতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় মাছের মাংসপেশিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ মানুষ মাছের এই অংশটিই মূলত খায়।
তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানেই যে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি গবেষকরা। মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব, কী পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক ক্ষতিকর এবং কীভাবে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে।

ছবির উৎস, Getty Images
আড়িয়ল বিলের দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে আড়িয়ল বিলে পাঁচ ধরনের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
সেগুলো হলো- কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি – যা মূলত দেশি মাছ হিসেবে পরিচিত। এগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে 'সর্বভুক' কই মাছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাক মো. শাহজাহান, এই গবেষণা দলের প্রধান, বলেছেন যে মাছগুলোর মাংসপেশিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মূলত, মাছের অন্ত্র বা পাকস্থলীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। কারণ মাছ খাবার ও পানির সঙ্গে এসব কণা গ্রহণ করে, যা পরিপাকতন্ত্রে জমা থাকতে পারে। মাছের খাবারের মাঝে থাকতে পারে পানি, ছোট মাছ, প্ল্যাঙ্কটন, এমনকি কাদা-মাটি।
তবে মানুষ সাধারণত মাছের নাড়িভুঁড়ি নয়, মাংসপেশিই বেশি খায়। তাই মাছের মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি গবেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তাহলে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কোনগুলো? ছোট মাছ নাকি বড় মাছ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ছোট মাছ সাধারণত অন্ত্রসহ-ই খেয়ে ফেলে মানুষ। সেই যুক্তিতে ছোট মাছেই সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার কথা। তবে কোন মাছে এটা বেশি আছে তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।"
উল্লেখ্য, 'স্পেশিও টেম্পোরাল ডাইনামিকস অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট অব মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন ওয়াটার, সেডিমেন্ট অ্যান্ড ফিশ ফ্রম অ্যা ক্রিটিক্যাল ওয়েটল্যান্ড ইকোসিস্টেম: আরিয়াল বিল, বাংলাদেশ' শীর্ষক গবেষণাটি করার জন্য বর্ষা, শীত ও শুষ্ক – তিনটি মৌসুমে আড়িয়ল বিলের পাঁচটি স্থান থেকে পানি ও তলানির নমুনা সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, পাঁচ প্রজাতির ১৫০টি মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশি বিশ্লেষণ করে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয় বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকরা জানান, পানি ও তলানি উভয় জায়গাতেই উপস্থিতি পাওয়া গেলেও তলানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল।
আর শীতকাল বা শুষ্ক মৌসুমে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।

ছবির উৎস, Getty Images
সমুদ্রে ও শুঁটকিতে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক
মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বুড়িগঙ্গা নদীর নাম বারবার আসে। অধ্যাপক মো. শাহজাহানও বলছিলেন যে বুড়িগঙ্গার দূষিত পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ অনেক।
ওই নদীর মাছেও মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। তবে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় অবস্থিত ২৬০ বর্গমাইল আয়তনের আড়িয়ল বিলে দূষণ অনেক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, বিলটির সব সংযোগ চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে এবং এ ব্যাপারে তারা সরকারকেও জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক দলটি এর আগে ব্রহ্মপুত্র, চলনবিল ও হাওরাঞ্চল এবং সমুদ্রের মাছ নিয়ে গবেষণা করেছে এবং সবগুলো জায়গার মাছেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।
"তবে সমুদ্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি থাকে। সমুদ্র বিশাল হলেও সমস্ত ময়লা আবর্জনা, পানি শেষমেশ গিয়ে সেখানেই জমা হচ্ছে," বলছিলেন অধ্যাপক শাহজাহান।
তিনি জানান, "এগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে শুঁটকিতে।"
'ড্রাইড ফিশ মোর প্রোন টু মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন ওভার ফ্রেশ ফিশ: হায়ার পটেনশিয়াল অব ট্রফিক ট্রান্সফার টু হিউম্যান বডি' শীর্ষক গবেষণাটি করার জন্য ওই গবেষক দল কুয়াকাটা ও চট্টগ্রাম উপকূল থেকে তাজা মাছ ও শুঁটকি সংগ্রহ করেছিলো।
ওই গবেষণায় শনাক্ত হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ফাইবার ধরনের কণা।
চলনবিল ও হাওরাঞ্চল নিয়ে করা 'মাইক্রোপ্লাস্টিকস অকারেন্স ইন ওয়াটার, সেডিমেন্ট অ্যান্ড এডিবল স্মল ইন্ডিজেনাস ফিশ স্পিসিজ ইন সিজনাল ফ্রেশওয়াটার ওয়েটল্যান্ড ইকোসিস্টেমস অব বাংলাদেশ' শীর্ষক গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়।
তাতে বলা হয়েছে, এই ধরনের জলাভূমির মাছে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে মাইক্রোফাইবার ধরনের এবং বর্ণহীন মাইক্রোপ্লাস্টিক। একই সঙ্গে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পলিস্টাইরিন ধরনের প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে।
২০২৩ সালে 'প্রেভেলেন্স অব মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন কমনলি কনজিউমড ফিশ স্পিসিজ অব দ্য রিভার ওল্ড ব্রহ্মপুত্র, বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশ করেছিলো তারা।
তখন ব্রহ্মপুত্র নদের উজান, মধ্যভাগ ও ভাটির বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচটি মাছ সংগ্রহ করা হয়েছিলো এবং তখন সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয় বাইম মাছে।
ওই গবেষণায় বলা হয়েছিলো, আকার ও ওজনে বড় মাছের অন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। এছাড়া, ভাটি অঞ্চলের মাছেও এর উপস্থিতি বেশি ছিল।

ছবির উৎস, Getty Images
মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকের এমন যে-কোনো কণা, যার প্রস্থ এক ন্যানোমিটার থেকে পাঁচ মিলিমিটারের মধ্যে।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি- এর বাস্তুতন্ত্র বিভাগের পরিচালক সুসান গার্ডনার এর মতে, এর দুটি প্রধান উৎস রয়েছে। কিছু প্লাস্টিক ছোট করে তৈরি করা হয়- যেগুলো প্রাইমারি মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত, যেটি ফেসওয়াশ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়।
কিন্তু বেশিরভাগ মাইক্রোপ্লাস্টিক আসে বড় আকারের প্লাস্টিক পণ্য পচনের ফলে তৈরি হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের মোড়ক, টেকঅ্যাওয়ে কন্টেইনার, পলিয়েস্টারের পোশাক, টায়ার, রঙ এবং কৃত্রিম ঘাস। এগুলো সেকেন্ডারি মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত।
ইউএনইপি এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে কেবল ২০২০ সালেই প্রায় ২৭ লাখ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে মিশেছিল। ধারণা করা হচ্ছে যে, ২০৪০ সালের মধ্যে এই পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে।
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের পণ্য- যেমন পানির বোতল ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হতে পারে। পলিয়েস্টারের মতো সিন্থেটিক কাপড় ধোয়ার সময়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের আঁশ ঝরে পড়তে পারে।
এছাড়া, মানুষ যখন এই কণা মিশ্রিত পণ্য ব্যবহার করে, তখনও মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে নির্গত হয়। পানি, মাটি এবং বাতাসেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায় বলে দাবি ইউএনইপি'র।
২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের অবস্থান এবং কার্যকলাপের উপর নির্ভর করে বছরে গড়ে ৩৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন।

ছবির উৎস, Getty Images
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব কতটা?
প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণও বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় খাদ্যপণ্য, পানীয় পানি এমনকি বাতাসেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তবে মানবদেহে এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না এবং এ বিষয়ে গবেষণাও চলমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে এর প্রভাব তাৎক্ষণিক নয়।
অধ্যাক মো. শাহজাহান বলেন, "যদিও বিভিন্ন জায়গায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এটি আমাদের সরাসরি ক্ষতি করে- এখনো এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।"
"কসমেটিকস, ব্রাশ, টুথপেস্টসহ বিভিন্ন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে। কর্ণফুলী টানেল করার সময় দেখা গেছে, তলদেশে প্রায় দুই তিনফুট প্লাস্টিক জমে আছে। এগুলোই তো পরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়," বলছিলেন তিনি।
তিনি জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তারা সেটি দেখার চেষ্টা করেছেন।
"তবে আমাদের গবেষণা বলছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর না। কারণ মাছের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিকের একটি অংশ মলমূত্রের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এগুলো আরও ক্ষুদ্র হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হলে রক্তে, শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে চলে গিয়ে ক্যান্সার সেল উৎপাদন করতে পারে, নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে শরীরে।"
তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে ন্যানোপ্লাস্টিকে রূপ নিতে কত দিন বা বছর লাগে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি এবং আরও বলেন যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ভারী ধাতুসহ অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থও বহন করতে পারে বলে বিষয়টি 'অ্যালার্মিং' (বিপজ্জনক)।
২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে পৃথিবীতে ১৯৯০ সাল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ ছয়গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কিছু অংশসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে।
কিন্তু এগুলো মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা খুঁজে বের করা বেশ কঠিন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

ছবির উৎস, Getty Images
২০২৫ সালের শুরুর দিকে, এ নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষক স্টেফানি রাইট।
এই গবেষক বলছেন, প্লাস্টিকের সীলযুক্ত টি-ব্যাগ গরম জলে ডোবানো কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে তরল পদার্থ মাইক্রোওয়েভে গরম করা- এমন নানা প্রক্রিয়ায় প্রতিদিনই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করছে।
"আমরা জানি যে প্লাস্টিক গ্রহণের ক্ষেত্রে হিটিং এবং গরম জল সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি, এবং এটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের জিনিসপত্র থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গমনকে ত্বরান্বিত করতে পারে," বলেন স্টেফানি রাইট।
তার অনুমান, যে ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে পৌঁছায়, সেগুলো হলো ক্ষুদ্রতর কণা। কিন্তু প্রাণী এবং টেস্ট টিউবের উপর বিভিন্ন গবেষণা সত্ত্বেও, "মাইক্রোপ্লাস্টিকের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা একজন সাধারণ সুস্থ ব্যক্তিকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে প্রায় কোনো তথ্যই নেই।"
২০২৪ সালের শেষের দিকে, চীনের একজন গবেষক কনুই, কোমর বা কাঁধের জয়েন্ট প্রতিস্থাপন সার্জারি করানো একদল রোগীর হাড় এবং কঙ্কাল পেশির নমুনার মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক আবিষ্কার করেন।
ওই বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে, ইতালির একদল গবেষক প্রাথমিক পর্যায়ের হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্যারোটিড ধমনীতে (মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী একজোড়া প্রধান নালি) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেন।
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বিজ্ঞানীদের আরেকটি দল মানবদেহের মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছিলেন।
এই গবেষণার নেতৃত্বদানকারী নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেন বলেন, যাদের মৃত্যুর আগে ডিমেনশিয়া ধরা পড়েছিল, তাদের মস্তিষ্কে, এই রোগে আক্রান্ত নন, এমন ব্যক্তিদের তুলনায় ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছিল।








