দিল্লিতে বিক্ষোভ: অভিজিৎ দীপকে সহ সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আটক হওয়ার পর 'নিরুদ্দেশ'

    • Author, ময়ূরী সোম
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
    • Author, প্রত্যুষ রায়
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, দলের নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে তিনটি পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ দলের।

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক "দেখে মনে হচ্ছে, যেন গোটা দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালু করা হচ্ছে।"

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও তার দলীয় সতীর্থদের পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার পরে বহুদূরের উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে গেছে। সেখানেই তিনি ধর্নায় বসেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জী, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার — শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে সকাল থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

দেখে নেওয়া যাক দিল্লিতে সর্বশেষ কী কী ঘটছে:

বিকেল ৪:৫২: ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, দলের নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে তিনটি পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ দলের। তাদের পরিবারকে আটকের বিষয়ে জানানো হয়নি এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। তাদের সঙ্গে কোনও আইনজীবীও নেই বলে দাবি সিজেপির।

বিকেল ৪.৪৮: একটি ভিডিও বার্তায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, "মোদিসাহেব, আপনি যা খুশি তাই করুন। যত পুলিশ প্রয়োজন নামান, ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, যা ইচ্ছা।"

"সব নেতাকে গ্রেফতার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেফতার করুন।"

"আমরা আপনাকে ঘিরে ফেলেছি এবং আমরা পিছু হটব না। প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমাদের হাতে ইতোমধ্যেই এসে গেছে।"

বিকেল ৪:২৬: সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আগামীকালের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দেওয়া হলে তিনি অনশন বা পদযাত্রার কর্মসূচি বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, "দেখে মনে হচ্ছে, যেন গোটা দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালু করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি।"

বিকেল ৪:১৫: আটকের পর বাম ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে একটি পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ বাম ছাত্র সংগঠন আইসা। সংগঠনটির সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট অনুযায়ী, "পুলিশ তার ফোনটি নিয়ে নিয়েছে। আইনজীবীদের তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।"

বিকেল ৪টে: মমতা ব্যানার্জী-সহ আটক হওয়া মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের পুলিশ হরিয়ানার কাছে উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে গেছে বলে দলের দাবি। মিজ ব্যানার্জী একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি দিল্লি পুলিশের হাতে 'অপহরণ' হওয়ার প্রতিবাদে দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম-সহ তার দলের চার জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে উত্তর দ্বারকা থানায় নির্জলা ধর্না দিয়েছেন।

"আমাদের দু'ঘণ্টা ঘোরানো হয়েছে পুলিশের ভ্যানে। এখনও আমরা বাইরে বসে আছি। … আমরা ৪৮ ঘণ্টাও থাকতে রাজি আছি, ৭২ ঘণ্টাও থাকতে রাজি আছি। তাই আমরা এখানে ধর্নায় বসেছি। আমরা জলস্পর্শও করব না।"

দুপুর ৩.২৭: দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। আটক করার সময় তিনি তার পার্টির সদস্যদের সঙ্গে যন্তর মন্তরের দিকে এগোচ্ছিলেন।

দুপুর ২.৫১: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমা প্রয়াত হয়েছেন। দিল্লি পুলিশের সূত্রের মাধ্যমে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, দিল্লি পুলিশ মি. দীপকেকে তার ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দিয়েছে, এবং তাকে জানাতে বলছে যে তিনি আটক অবস্থায় প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন না শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরে যাবেন।

দুপুর ২.৫০: গুরদোয়ারা বাংলা সাহিব থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের আটক ও তাদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুক্রবার দিল্লিতে আসা অনেকেই গুরদোয়ারা বাংলা সাহিবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শনিবার সকালে সেখানে প্রায় ৬০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

হায়দরাবাদের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের উপর লাঠিচার্জ করা হয় এবং অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি তার।

আটক হওয়া বাম ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা সামাজিক মাধ্যমে জানাচ্ছেন, "লোকজন এই মুহূর্তে সফদারজং ফ্লাইওভারের কাছে জমায়েত করছেন।"

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলছেন, "যদি আপনাকে থামানো হয়, আপনি যেখানে আছেন সেখানে বসে পড়ুন এবং ওখানে আন্দোলন চালু রাখুন।"

ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডেও সামাজিক মাধ্যমে একই বার্তা দিয়েছেন। "সকল দেশবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা যেখানেই আছেন, যেখানেই আপনাদের থামানো হচ্ছে, আপনারা সেখানেই নিজেদের যন্তর মন্তর তৈরী করে নিন।"

দুপুর ২.১৫: দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে তাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। পুলিশের গাড়িতে বসে থাকা মিজ. ব্যানার্জীর একটি ছবিও তারা শেয়ার করেছে সামাজিক মাধ্যমে।

দুপুর ২টা: বাম ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সামাজিক কর্মকর্তা যোগেন্দ্র ইয়াদভ সহ একাধিক নেতা আটক। বিবিসি সংবাদদাতা দিলনাওয়াজ পাশা জানাচ্ছেন এদের সফদারজং ফ্লাইওভারের কাছে আটক করা হয়।

দুপুর ১.৩০টা: বাম ছাত্র সংগঠন আইসার সভানেত্রী নেহা বোরা-সহ অনেক ছাত্র-যুব আন্দোলনকারী ইতোমধ্যে দিল্লি হাট অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। বিক্ষিপ্ত ভাবে দিল্লিতে বিজেপি দফতরের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

দুপুর ১.১০: অনেক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে।

দুপুর ১টা: সিজেপির এক্স একাউন্টে অভিজিৎ দীপকের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "আপনারা এই ভিডিও দেখছেন মানে আমি, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা তিনজনেই গ্রেফতার হয়েছি। এবার এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন আজিঙ্ক্যা শিন্ডে।"

সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানোর পর তাদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে ৩০-৪৫ মিনিট রাখার পর ফের তাদের জিপে তুলে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা তাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তার। পিনারাই বিজয়নের মতো একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের কী পরিস্থিতি হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মি. ব্রিটাস।

দুপুর ১২:৩৫: বিবিসি সংবাদদাতা প্রত্যুষ রায় জানাচ্ছেন, দিল্লির বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিকদেরও একে একে আটক করতে শুরু করেছে পুলিশ। জনপথ এলাকার রিগাল হোটেলের কাছে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের কাছে বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দুপুর ১২:৩০: ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির একাধিক সদস্যের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।

সকাল ১১:৩০: বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাদের একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।

সকাল ১১:২৭: বিক্ষোভ শুরুর আগেই সিপিআই(এম)-এর একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে দলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, কেরালার বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন, বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন এবং পি কে শ্রীমতী।

সকাল ১০:৫৩: ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা, অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস, আজ সকালে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছন। তাদের দাবি, বিমান দিল্লিতে অবতরণের পরই দিল্লি পুলিশ বিমানের ভিতর থেকে তাদের আটক করে।

বিমান থেকে সিজেপির সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দীপকে-কে বলতে শোনা যায়, "দিল্লি পুলিশের প্রচুর কর্মকর্তা বিমানে ঢুকছেন। … আমরা কেবল একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলাম। আর ওরা আমাদের বিমান থেকে এমনভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, যেন আমরা অপরাধী।"

সকাল ১০:৩০: ককরোচ জনতা পার্টির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে আমাকে পায়নি। রাস্তায় আমার গাড়ির ভিতর থেকে বেআইনিভাবে আমাকে আটক করা হয়েছে। আমার গাড়ির চারপাশে প্রায় ২৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের মতো মহিলা পুলিশকর্মীও আছেন।"

সকাল ৯:৫০: ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদী সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ধ্রুব রাঠি চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে আটই অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।