ভিডিও কলে শুধু কবুল পড়ে বিয়ে করলে কি বৈধ হয়?

ছবির উৎস, Tanvir Ibna Shafi via Getty Images
- Author, জান্নাতুল তানভী
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
- Published
- পড়ার সময়: ৮ মিনিট
"আব্বা না মানায় প্রেমিকের সাথে পালিয়ে সিলেট চলে গেছিলাম। সেখানে একটা মসজিদে একজন হুজুর বিয়ে পড়াইছিল, কলেমা পড়ছি, রেজিস্ট্রি হইছে কিনা জানি না," কথাগুলো বলছিলেন সালমা সুলতানা।
চব্বিশ বছর বয়সী মিজ সুলতানার নামটি ছদ্মনাম।
বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল কিনা চার বছরের দাম্পত্য জীবনে তা কখনো জানার চেষ্টা করেননি তিনি।
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিজ সুলতানার মতো এমন অনেকেই আছেন যাদের বিয়ে আদৌ রেজিস্ট্রি হয়েছে কিনা- সেটি তারা জানেন না।
আবার এমন অনেকে আছেন, যারা শরীয়ত মতে কলেমা পড়ে বিয়ে করেন অথবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিড করে বিয়ে করেন।
আইনজীবী এবং কাজী অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মসজিদে গিয়ে বর-কনে কবুল বলে বিয়ে করলে সেটি রেজিস্ট্রি না করলেও শরীয়তসম্মত।
কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এমন বিয়ে বৈধ নয়।
আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, "বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, বিয়ে এবং তালাক বৈধ হতে হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। এটা একমাত্র কাজীর দ্বারা করা যায়। রেজিস্ট্রি করা না হলে কোন বিয়েই রাষ্ট্রীয় আইনে বৈধ নয়।"
বাংলাদেশে সব ধর্মের বিয়েই রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক বলে জানান তিনি।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ

ছবির উৎস, towfiqu ahamed via Getty Images
এফিডেভিট করে বিয়ে হয়?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশে প্রায়ই এমন ঘটনার কথা শোনা যায় যে, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে হয়েছে।
কিন্তু আইনজীবীরা বলছেন, এফিডেভিটের মাধ্যমে কোনো বিয়ে হলে সেটি দেশের আইনানুযায়ী বৈধ নয়।
আইনজীবী মো. শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, "বাংলাদেশে বিয়ে এবং তালাক এই দুইটা অবশ্যই রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে এবং এটা একমাত্র কাজীই করেন। এফিডেভিট করে কোনো বিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনে বৈধ নয়। একমাত্র কাজীই বিয়ে এবং তালাক নিবন্ধনকারী।"
মি. সুমন বলছিলেন, বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, বিয়ে বৈধ হতে হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে।
নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ের আইনি কোনো ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনজীবীরা বলছেন, অনেক সময় বয়স লুকানোর জন্য এফিডেভিট করে অনেকে বিয়ে করে কিন্তু রেজিস্ট্রি করে না। কেননা আইনানুযায়ী বিয়ের বয়স না হলে রেজিস্ট্রি করা যায় না।
শামসুদ্দোহা সুমন গত জুলাই মাসের এমন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে ১৩ বছরের এক কিশোরীর এফিডেভিট করে বিয়ে হয়েছিল।
দেশের আইনানুযায়ী, বিয়ের জন্য মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অবৈধ বিবাহ এবং তালাক কার্যক্রম বন্ধে আইন মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে নির্দেশনাও জারি করেছিল।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের এক সহায়িকায় বলা হয়েছে, বয়সের শর্ত ছাড়া বিয়ের ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী ছেলে ও মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে।
এই সম্মতি জোরপূর্বক নয় স্বেচ্ছায় দিতে হবে।
নোটারির মাধ্যমে বিয়ে আইনে বৈধ না হওয়ায় পরবর্তীতে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে কোনো আইনি অধিকার, যেমন: কাবিনের টাকা, দেনমোহর, সম্পত্তির ভাগ বা উত্তরাধিকার দাবি করা যায় না বলে জানান মি. সুমন।
এছাড়া, বয়স গোপন করে বাল্যবিবাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে নোটারি এফিডেভিট ব্যবহার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও জানান আইনজীবীরা।
তিনি জানান, বাংলাদেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী, কেবল নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর মাধ্যমে করা বিয়েই আইনত বৈধ।
একইসঙ্গে, অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ ধর্মীয় আইন ও নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বলে জানান মি. সুমন। এক্ষেত্রে ম্যারেজ সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করতে হবে।
ঢাকার উত্তরা কাজী অফিসে বিয়ে পড়ান আহসান উল্লাহ মাসুক। তিনি কাজীর সাথে বিয়ের আনুষঙ্গিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
তিনি বলছিলেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বর-কনে উভয়ের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে কবুল বললেই বিয়ে হয়ে যায়।
"কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি করা না হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী তার সম্পত্তির ভাগ যেমন পায় না তেমনি লাশও বুঝে পায় না। কারণ তার তো কাবিননামা নাই, স্বীকৃতিই নাই" বলেন মি. মাসুক।
তিনি জানান, আইনানুযায়ী, বিয়ে হওয়ার এক মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রি করতে হয়। এর দায়িত্ব স্বামীর।
যদি তিনি বিয়ে রেজিস্ট্রি না করেন তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যেমন রয়েছে, তেমনি নানা আইনি জটিলতায়ও পড়তে হয়, বলেন মি. মাসুক।
বিয়ে রেজিস্ট্রি করার পরই কাবিননামা দিয়ে দেন কাজী। এই কাবিননামাকেই বাংলাদেশের আইনানুযায়ী বিয়ের প্রমাণপত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
বিয়ে রেজিস্ট্রি না করলে অনেক সময় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা যৌতুকের মামলায় ফেঁসে যাওয়ার উদাহরণও রয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।
পালিয়ে বা গোপন বিয়ে কী ইসলামে জায়েজ?
প্রত্যেক মানুষই নিজের বিয়ে নিয়ে নানা রঙের স্বপ্ন দেখেন।
অনেক সময় পছন্দের মানুষকে পেতে পরিবারকে না জানিয়ে গোপনেও বিয়ে করেন অনেকে।
আবার স্ত্রী থাকলেও তাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন কেউ কেউ।
ঢাকার উত্তরা কাজী অফিসের কর্মকর্তা মি. মাসুক জানান, গোপনে বিয়ে বা পালিয়ে বিয়ে নিয়ে ইসলাম ধর্মে নানা মতবাদ রয়েছে।
"আহলে হাদিস যারা করেন তারা বলেন, বিয়েতে যদি কনের বাবা হাজির না থাকেন তাহলে বিয়ে জায়েজ না। এক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলতে যে লক্ষণগুলো পরিলক্ষিত হলে প্রাপ্তবয়স্ক বলা যায়, ওইরকম নারী বা পুরুষ হলে অভিভাবক থাকা জরুরি না" বলেন মি. মাসুক।
তবে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবক থাকা জরুরি বলে জানান তিনি।

ছবির উৎস, Saddif via Getty Images
শুধু তিন কবুলেই বিয়ে হয়ে যায়?
মি. মাসুক বলছিলেন, বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করে থাকেন যে, কলেমা পড়ে বিয়ে হয়েছে। আসলে বিষয়টা ঠিক তা নয়।
"বিয়ে পড়ানোর সময় যখন আমরা বলি যে, এত টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া অমুকের পুত্র, অমুকের কন্যার কাছে সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব করিলাম, আপনি রাজী থাকলে কবুল বলেন। তো তারা কবুল বলে। মানুষ এইটাকেই বলে কলেমা পড়ে বিয়ে হইছে। আসলে তো তা না" বলেন মি. মাসুক।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে এই বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশে আইনের দৃষ্টিতে বিয়ে তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন এটি রেজিস্ট্রি করা হবে বলে জানান তিনি।
ভিডিও কলে বিয়ে হয়?
বাংলাদেশে অনেক পরিবারই আছেন, মেয়ে বা ছেলের জন্য যাকে পছন্দ করেন তিনি দেশের বাইরে থাকেন।
এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় যদি ওই ব্যক্তি বিয়ে করার জন্য দেশে আসতে না পারেন তাহলে ভিডিও কলেই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
উত্তরা কাজী অফিসের কর্মকর্তা মি. মাসুক জানান, ধর্মীয় ওলামাদের মধ্যে ভিডিও কলে বিয়ে হওয়া নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ রয়েছে।
"ইসলামে বলা হয়েছে, একটা বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য তিনটা শর্ত জরুরি। এর মধ্যে একটা হচ্ছে সাক্ষী থাকা জরুরি। এখন ভিডিও কলে যদি বিয়ে হয়, এখনকার অনেক আলেম স্কলাররা সাক্ষীদের যদি চেনে-জানে তাহলে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করেন" বলেন কাজী অফিসের ওই কর্মকর্তা।
কিন্তু ভিডিও কলে বিয়ের ক্ষেত্রে তা রেজিস্ট্রি করা যায় না।
মি. মাসুক বলছিলেন, "একজন বিদেশে থাকলে কাজী রেজিস্ট্রি করবেন কিভাবে? কেননা রেজিস্ট্রি করতে হলে উভয়কেই কাজীর সামনে এসে শারীরিকভাবে কাগজে স্বাক্ষর করতে হয়। তাহলেই এটা রেজিস্ট্রি করতে পারেন তিনি। কারণ রেজিস্ট্রার মানেই স্বাক্ষর।"
তিনি বলছিলেন, এমন বিয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই অসদুপায় অবলম্বন করে থাকেন।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, বর বা কনের যে কোনো একজনের অনুপস্থিতিতে অনেক সময় অভিভাবকেরা স্বাক্ষর করে জানান যে, দুই-তিন মাস পরেই সে দেশে ফিরবেন।
কিন্তু যদি ওই দুই-তিন মাসের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়, তখনই জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করেন মি. মাসুক।
কারণ তখন ওই ব্যক্তি এমন দাবি করতে পারেন যে, উনি বিয়েই করেন নাই, ওনার স্বাক্ষর নাই।
এমন সব ক্ষেত্রে যেই কাজী বিয়ে পড়ান তিনি বিপদে পড়ে থাকেন, এমনকি তার লাইসেন্স নিয়েও টানাটানি হয় বলে জানান আহসান উল্লাহ মাসুক।
ধর্মীয়ভাবে এই বিয়ে বৈধ হলেও রেজিস্ট্রি না করলে আইনানুযায়ী বিয়ে সঠিক হয় না বলে জানান তিনি।

ছবির উৎস, Getty Images
ভিন্ন ধর্মের দুইজনের বিয়ের সুযোগ কোন আইনে?
দুই বছর প্রেম করার পর প্রতীক আকবর এবং ডলোরেস দোলা কোরাইয়া বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু মি. আকবরের মুসলিম পরিবারের কেউই তার চেয়ে ছয় বছরের বড় ভিন্নধর্মী একজন নারীর সাথে বিয়ে দিতে রাজী হননি। এখনও রয়ে গেছে সেই তিক্ততা।
যদিও মিজ কোরাইয়ার পরিবার এক পর্যায়ে মেয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হন।
তবে, নিজেদের ধর্ম পরিবর্তন করে নয় বরং নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখেই কীভাবে বিয়ে করা যায় একপর্যায়ে সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তারা।
প্রতীক আকবর বলছিলেন, মুসলিম কাজী অফিসে খোঁজ নিতে গেলে কনের ধর্ম পরিবর্তন করলে বিয়ে সম্ভব বলে জানানো হয় তাকে।
একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ এর মাধ্যমেই তারা নিজ ধর্ম পরিবর্তন না করে বিয়ে করতে পারবেন। পরে এই আইনে বিয়ে করেন তারা।
একইসঙ্গে, খ্রিস্ট ধর্ম অনুযায়ী, গীর্জায় গিয়েও বিয়ে করেছেন যাতে মিজ কোরাইরা সমাজচ্যুত না হন।
একটা সময় বাংলাদেশে কেবলমাত্র ঢাকার পাটুয়াটুলির ব্রাহ্ম সমাজ কার্যালয়ে এই বিশেষ বিবাহ আইনে সরকার অনুমোদিত একজন সিভিল রেজিস্ট্রার বা বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রার ভিন্নধর্মীদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতেন।
তিনি মারা যাওয়ার পর এখন আরেকজন সিভিল রেজিস্ট্রার এই আইনে ভিন্নধর্মীদের বিয়ে ও রেজিস্ট্রির কাজ করেন।
এই আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পালন করতে হয়।
- বিয়ের সময় দুইপক্ষের কারোরই কোন জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না।
- গ্রেগারিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী, পুরুষ ব্যক্তির বয়স ২১ বছর এবং নারীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে।
- তবে এই আইনে বর-কনে দুইপক্ষ রক্তের সম্পর্কে বা বৈবাহিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারবেন না। যদি এ রকম হয় তবে ওই বিয়ে অবৈধ হবে এবং রেজিস্ট্রি করা যাবে না।
- একজন সিভিল রেজিস্ট্রার এবং তিনজন সাক্ষীর সামনে এই বিয়ে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে এই আইনে। তাদের উপস্থিতিতে তিন বার বলতে হবে, "আমরা পরস্পর পরস্পরকে আইনসঙ্গত স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম।"
- এই বিয়ের প্রথম ধাপে হলফনামায় বর-কনের স্বাক্ষর নেয়া হয়, সেটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নোটারাইজ করতে হয়। এই হলফনামায় অবশ্যই বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে বিয়ে লেখাটি থাকতে হবে।
- দ্বিতীয় ধাপে, নির্ধারিত রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে নিবন্ধনের একটি নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভিন্ন ধর্মের কোনো যুগল বিয়ে করতে চাইলে তাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর সেই ধর্মের ধর্মীয় রীতিনীতি এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী (যেমন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১) বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
কোন কোন ক্ষেত্রে বিয়ে অবৈধ?
বাংলাদেশের আইন এবং ধর্ম অনুযায়ী, বেশ কিছু কারণ থাকলে বিয়ে অবৈধ হতে পারে।
- আইনে নির্ধারিত বয়সসীমার নিচে বা কম বয়সী ছেলে-মেয়ের বিয়ে হলে সেটি বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হবে এবং সেই বিয়ে বৈধ নয়।
- দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- যদি জোরপূর্বক সম্মতি আদায় করা হয় তাহলে সেই বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে।
- বিয়ে রেজিস্ট্রি না করা হলে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।
- কাজী অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, একজন পুরুষের চার স্ত্রী জীবিত থাকাবস্থায় পঞ্চম বিয়ে করলে ওই বিয়ে কখনোই বৈধ হবে না, এটি অবৈধ।
- একজন পুরুষের স্ত্রী থাকাবস্থায় যদি তার বোনকে বিয়ে করে তাহলে সেটি বৈধ হবে না।
- ইসলাম ধর্মে, ১৪ ধরনের আত্মীয়ের সাথে বিয়ে হারাম। যেমন: কোন ব্যক্তি যদি তার খালাকে বিয়ে করেন তাহলে তা অবৈধ।
- স্বামী জীবিত থাকাবস্থায় কিংবা তালাক দেয়ার পরে যদি একজন স্ত্রী তিন মাসের ইদ্দতকালীন সময় পার হওয়ার আগেই বিয়ে করে তাহলে সেই বিয়ে অবৈধ।









