পত্রিকা: 'চতুর্মাত্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

কালের কণ্ঠের প্রধান সংবাদ— ব্যবসাবান্ধব বাজেট, চ্যালেঞ্জ অনেক

এই খবরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের সরকারের দেওয়া প্রথম বাজেটের কথা বলা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন এই বাজেটে। চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি হলেও ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ের বাজেট দিয়েছেন।

বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা।

ঘোষিত এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। ২০২৬-২৭ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।

কেননা চলতি বছরের বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থমন্ত্রী 'সব কূল' রক্ষা করতে চেষ্টা করেছেন বাজেটে। সক্ষমতা ও সামর্থ্য কম জানার পরও বড় অঙ্কের ধারকর্জ ও বেশি রাজস্ব আদায় করার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির চাকা সচল হয়।

অনেকে তার এ প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও সমালোচকরা মনে করছেন, বড় বাজেট দিয়ে তিনি এসেই 'গোল' দিয়ে দিতে চাইলেও বাদ সাধবে অর্থের সংস্থান। পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে উচ্চ সুদের হার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব কাঠামো, ভঙ্গুর ব্যাংক খাত, দুর্নীতি, সুশাসন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসহ নানা প্রতিবন্ধকতা।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— Govt unveils plan for four-dimensional armed forces; অর্থাৎ চতুর্মাত্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

এই খবরে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আত্মনির্ভরশীল ও 'চতুর্মাত্রিক' বাহিনীতে রূপান্তরের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে বিএনপি সরকার।

দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশলে এটিকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের গোয়েন্দা খাতের ভেতরে তহবিল বরাদ্দে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বাজেটের নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমিয়ে ২৩৬ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৫৪৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অর্থায়ন বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এনএসআই ও এর মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোর জন্য ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৫৪০ কোটি টাকা।

স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকার 'মেড ইন বাংলাদেশ' ব্যানারে একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার এবং দ্বিতীয় সমরাস্ত্র কারখানা নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে।

বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে কিছুটা বেশি।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টি বাজেটে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

কমতে পারে নিত্যপণ্য থেকে প্রযুক্তিপণ্যের দাম— নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর এটি।

এতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে জনস্বার্থ, কৃষি, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব খাতকে উৎসাহিত করতে শতাধিক পণ্য ও সেবায় কর-শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজসহ কৃষিভিত্তিক ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর পণ্যভেদে ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎসে কর রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যবসায়ীদের করের চাপ কমবে এবং বাজারে সরবরাহব্যবস্থার ব্যয়ও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়া, সব ধরনের আমদানিনির্ভর মসলার ওপর আরোপিত রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতেও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এসব খাতের খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালকে শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি পোলট্রি ও ডেইরি খাতের যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক শূন্য শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— ভোটের ইশতেহার বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছে সরকার

এই খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জাতীয় বাজেটে ওই সব প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে।

বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১.০২ %) করার প্রস্তাব করা হয়েছে; যা গত অর্থবছরে ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৫৮ %)।

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের আর্থিক সুরক্ষাবলয়ের নিচে আনতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি।

আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে 'ফ্যামিলি কার্ড' দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে 'কৃষক কার্ড' এর আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষিবিমা ও ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার টন মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য যৌথভাবে মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তরুণসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করতে প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর— নতুন কী। আগামী অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে নতুনত্ব কী এসেছে, সেই তথ্য আছে এতে।

স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক।

১০ দিনের মধ্যে ভিসা পাবেন বিদেশী বিনিয়োগকারী।

৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াত, মেট্রোরেলের টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড়।

মোবাইল সিমের ওপর ৩০০ টাকা কর বাতিল।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার।

পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে শুল্কছাড়।

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ট্যাব।

করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা, সারা বছর রিটার্ন দেয়া যাবে।

মৎস্য বীমা স্কিম চালুর পরিকল্পনা।

ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব।

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার সংবাদ— মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ

এতে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

গতকাল বাজেট ঘোষণায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।

তবে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে আনার জন্য অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনাকে বাস্তবতার নিরিখে কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, রাজস্ব নীতি ও সরকারের ব্যয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে থাকে।

পাশাপাশি সরকার যেসব ভোগ্যপণ্যের কর ও শুল্ক ছাড় দিয়েছে, সেসব সুবিধা যাতে জনগণ পায়, সে বিষয়ে নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি, যা বর্তমানে সরকারের হাতে সীমিত।

প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ ও দক্ষতায় জোর— সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সব সময় কম। বিগত এক দশকে প্রস্তাবিত অধিকাংশ বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশের নিচে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যদিও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে যে কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সুপারিশ করে জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

এবার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে বিএনপি সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এ বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

বাজেটে শিক্ষা খাত-সংক্রান্ত বরাদ্দ কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য তৈরি করা হবে পাঁচটি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ মডিউল। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ শিক্ষক গড়ে তুলতে একটি রিসোর্স পুলও গঠন করা হবে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে স্থাপন করা হবে ৫০০টি ভাষা ল্যাব।

২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর— Opposition parties term FY27 budget anti-people; অর্থাৎ ঘোষিত বাজেটকে গণবিরোধী বলছে বিরোধীদল।

এই খবরে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

তারা এই বাজেটকে অবাস্তব, জনবিরোধী এবং জনগণের ওপর উচ্চ করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া বলে আখ্যা দিয়েছে।

দলগুলোর অভিযোগ, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট দুর্নীতির সুযোগ বাড়াবে এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ে জর্জরিত মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরপরই রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটের সামনে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট সরকার যে আড়াই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি দেখিয়েছেন তা প্রকৃত আর্থিক ঘাটতির চেয়ে অনেক কম।

তার যুক্তি, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ছয় দশমিক ৯৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব এবং প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার মতো হতে পারে।

আর বাংলাদেশের ইতিহাসে বাজেটে এইবার সবচেয়ে বড় ঘাটতি হতে পারে সতর্ক হতে করেন এনসিপির এ নেতা।

বামপন্থী দলগুলোও কাছাকাছি সুরে বাজেট নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

শাকিরার সুরে বিশ্বকাপের শুরু— প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি।

এই প্রতিবেদনে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে যখন আগামী অর্থবছরের হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন আটলান্টিকের উপারে আজতেকা স্টেডিয়ামের মাঝে বেশ বড় সোনালি ট্রফি। এর চারপাশে সোনালি পোশাকের পারফরমার। আজতেক সভ্যতার সোনালি সময় ফুটেছে তাদের পোশাক ও নাচের ঢঙে। লিলা ডাউনস দাড়িয়ে তার মাঝে। সুরেলা কণ্ঠে মেক্সিকান সংগীতশিল্পী স্বাগত জানালেন বিশ্বকে, 'বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগত!'

ব্যস, ঢাকে কাঠি পড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের।

আর হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে শাকিরা যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন যেন শুরু হলো বিশ্বকাপের আসল ঢেউ। সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়ে 'দাই দাই' গানের সুর ধরেন শাকিরা। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ও ভালো সঙ্গ দেন কলম্বিয়ান কিংবদন্তিকে।

কিন্তু সব চোখ আসলে কলম্বিয়ান কিংবদন্তির ওপরই ছিল। শাকিরা ছাড়া বিশ্বকাপ আবার জমে নাকি! ২০১০ বিশ্বকাপে 'ওয়াকা ওয়াকা' গান দিয়েই তো চিরস্মরণীয় হয়ে গেছেন।

আজতেকার বাইরেও তখন বেশ চড়া হয়েছে উৎসবের সুর। নাচে-গানে মেতেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা, তার মধ্যে বেশিরভাগই মেক্সিকান।

দ্য ডেইলি স্টারের শেষের পাতার খবর— Ad-din hospital's licence cancelled; অর্থাৎ আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল।

এই খবরে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে ভোরে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

এর ফলে ৭০০ শয্যার এই বেসরকারি হাসপাতালটি কার্যত কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি হারিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নতুন রোগী ভর্তি না করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর অথবা চিকিৎসা শেষে যেন ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায়, তখন সেখানে ৪১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত রোগীদের স্বার্থে হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ তাদেরকে দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছে।