জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ কি থাকবে?

ছবির উৎস, TV Screen Grab
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, তাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার 'নৈতিক স্খলন' প্রমাণিত হয়েছে। সেজন্য গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
মূলত, একজন তরুণীর সঙ্গে 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
ভিডিওগুলো সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থনে কেউ কেউ এটি 'এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে' উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করেন। পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়।
এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাকে তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই সম্প্রতি বিয়ে করেছেন।
যদিও তার এই কথিত দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ কাবিননামায় নাম থাকা কাজী একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেছেন, বিয়ে কোথায় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কাবিননামাটি পুরোনো তারিখ বসিয়ে তৈরি করেছেন।
সব মিলিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো, তার সংসদ সদস্য পদের কী হবে? 'নৈতিক স্খলনের' অভিযোগে কি তার বিচার সম্ভব?

ছবির উৎস, facebook.com/gazinazrulofficial
সংসদ সদস্য পদ হারানোর সম্ভাবনা কতটা?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বহিষ্কারের আজকের এই সিদ্ধান্তের আগে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতের বিভিন্ন নেতার সাথে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা।
দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছিলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি সংগঠনের গঠনতন্ত্রে বর্ণিত বিধি লঙ্ঘন করে ও নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, অথবা তার ভূমিকার মাধ্যমে যদি সংগঠনের সুনাম ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন তার সদস্য পদ তো বাতিল হবেই।"
"এমনকি তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করারও বিধান আছে। সদস্য পদ বাতিল হলে সংগঠনে সে থেকে যাবে, কাজ করতে পারবে। আর বহিষ্কার মানে সংগঠন থেকেই বহিষ্কার।"
গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী শেষপর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কার করেছে, তাহলে কি তার সংসদ সদস্য পদ হারানোরও সম্ভাবনা আছে?
এ বিষয়ে সংসদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে জানান, জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার হলেও তার সংসদ সদস্য পদ যাবে না।

ছবির উৎস, https://www.facebook.com/gazinazrulofficial
"নৈতিক স্খলনজনিত কোনো বিষয় যদি সংসদের ইনকোয়ারি কমিটিতে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পদ যেতে পারে। এটার জন্যও সংসদীয় তদন্ত লাগবে," বলছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকও বিবিসি বাংলাকে বলেন, দলের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করলে সাধারণত দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
"কিন্তু সংসদ সদস্য পদ হারাবে তখনই, যখন কেউ দলের বিপক্ষে সংসদে ভোট দেয় অথবা পদত্যাগ করে। এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ফৌজদারি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারও যদি দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হয়, তখন," বলছিলেন তিনি।
"তবে এখানে একটা অস্পষ্টতা আছে। সব অপরাধের জন্য এটা হবে না, শুধু নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে হবে। এখন কোনটা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ, আর কোনটা না, সেটার কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা নাই। কোর্টের রায়েও এ নিয়ে কিছু আসে নাই" বলেন শাহদীন মালিক।
বহিষ্কার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক স্খলনের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছবির উৎস, facebook.com/BJI.Official
'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক নিয়ে আইন কী বলে?
গাজী নজরুল ইসলাম যদিও দাবি করছেন যে, তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি আদৌ ওই নারীকে বিয়ে করেননি।
এমনিতে 'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলে?
আইনজীবী শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, "আইনগতভাবে কেউ যদি স্বামী- স্ত্রী না-ও হয়, তাহলে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক আইনের চোখে ফৌজদারী অপরাধ না।"
"এমনকি প্রথম স্ত্রীর পারমিশন না নিয়ে অন্য কোনো নারীকে বিয়ে করলেও সর্বোচ্চ শাস্তি হবে এক বছরের জেল। আইনের চোখে বিয়েটা কিন্তু তখনও বৈধ।"
জামায়াত নেতা মি. ইসলামের ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, "ওই নারী যদি এটা না বলে যে তাকে জোর করে বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে, তখন এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই অভিযোগগুলো ওই মেয়ের কাছ থেকে আসতে হবে।"
ওই তরুণীকে নিয়ে আরও একটি ধোঁয়াশা রয়েছে যে তার বয়স ১৮ বছরের কম।
এ বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন, "১৮ বছরের কম হলেও এটা অপরাধ না। আইনগতভাবে ১৮ বছরের কম হলে বিয়ে হবে না। ছেলের ২১ বছরের কম হলে বিয়ে করতে পারে না। এটা শুধু বিয়ের ব্যাপারে প্রযোজ্য। অন্য কোনো কিছুর জন্য প্রযোজ্য নয়।"
তার মতে, এই বিষয়টিতে আইনগতভাবে কোনো সমস্যা নেই। এটি নৈতিকতার ব্যাপার।
একই প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, "আইনে আছে, ১৮ বছরের নিচে হলে বিয়ে করা যায় না, তখন নিকাহ রেজিস্ট্রারও জবাবদিহির আওতায় আসবে। আর বিয়ের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক করা সামাজিক বিষয়। কিন্তু যার সাথে ঘুরছে, সে কখনও অভিযোগ করলে মামলা হয়ে যাবে।"
কোনো স্বামী যদি 'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে?
এর উত্তরে মি. মোরসেদ বলেন, "এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাধারণত স্ত্রীরা তালাক দিয়ে দেয়। কিন্তু স্ত্রী চাইলে অভিযোগ করতে পারবে। তবে স্বামী যে পরকীয়ার সাথে জড়িত, তা তাকে প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ, এভিডেন্স থাকবে, বা যার সাথে পরকীয়া করছে, তারও অভিযোগও লাগবে।"
মি. ইসলামের ঘটনা প্রসঙ্গে টেনে তিনিও বলেন, "বলছে বিয়ে করেছে। কিন্তু ওই মেয়ের ১৮ বছর হয়েছে কি না, তা বলা যায়। এ সব ক্ষেত্রে ধরা পড়লে সাধারণত স্ত্রী বলা হয়। তবে এই মেয়ে বা তার পরিবার যদি ভবিষ্যতে অভিযোগ করে, তাহলে কোনো আইনি প্রক্রিয়া আগাতে পারে। নইলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নাই।"

ছবির উৎস, https://gazinazrulislam.com/
অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া কতটা বৈধ?
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে একটি কক্ষে জিম্মি করে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে এটি বিবাহবহির্ভূত ঘটনা।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, আইনের চোখে এই ঘটনা (মি. ইসলামের) ফৌজদারি অপরাধ না। এটি সামাজিকভাবে অনৈতিক কাজ।
"একটি অনৈতিক কাজের জন্য এভাবে মব করে আক্রমণ করা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বরং এটা অপরাধ। কারণ বিচার করার ক্ষমতা তো আদালত ছাড়া আর কারও নাই।"
বাংলাদেশ দণ্ডবিধিতেও বেআইনিভাবে কাউকে আটক করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের (মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
মূলত, সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে।
পরে আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজনকে তাদের একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায়।

ছবির উৎস, Getty Images
ঘটনাপ্রবাহ: ভিডিও, বিবৃতি, কাজীর স্বীকারোক্তি
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার ভাষ্য, গত ১৭ই জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে এবং ১৩ই জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক অফিসে যান।
তার ওই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ওই তরুণীর এক মামাকে দায়ী করেন মি. ইসলাম। তিনি এটাও দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে 'প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই'।
তিনি বলেন, "সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে।"
"আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।"
''পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত," গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন তার ফেসবুক পোস্টে।

ছবির উৎস, Getty Images
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে।
সেখানে তাকে লিখিত বিবৃতি পড়তে দেখা গেছে।
এতে তিনি বলেছেন, "আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সহিত মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) সাথে বিবাহ হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।"
এরপর নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় আরেকটি বক্তব্য দেন গাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা যাওয়া তরুণী।
সেখানে ওই তরুণী বলেছেন, "আমার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।''
তিনি বলেন, "প্রথমত আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়।"
"২০২৬ সালের ১৭ই জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ১৩ই জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যান।"
এদিকে, জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এবার বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজীর একটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে গতকাল।
ভাইরাল অডিওতে কাজীকে বলতে শোনা যায়, ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে ফোনে তাকে মেয়ের নাম, জন্মতারিখ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছিলো। গতকাল ২১শে জুলাই সকালে ওই তরুণী ও অভিভাবক গিয়ে সেই কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন।
অর্থাৎ, গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে তাদের বিয়ে হয়েছে আরও এক মাস আগে, অর্থাৎ ১৭ই জুন। এদিকে, কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বিয়ের তারিখ ১৭ জুলাই। অথচ, কাজীর দাবি অনুযায়ী, কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় গতকাল ২১শে জুলাই।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপিকে তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বা তার লোকেরা জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন, এ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সেই প্রশ্নের কোনো জবাব আসেনি কোনো পক্ষ থেকে।
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "কথাটা হয়তো যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রীরাও সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন।"








