সিজারিয়ান অপারেশনের সঙ্গে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সম্পর্ক কী?

    • Author, মরিয়ম সুলতানা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • পড়ার সময়: ৮ মিনিট

সিজারিয়ান সেকশন, যা সি-সেকশন বা সিজারিয়ান ডেলিভারি নামেও পরিচিত, এটি মূলত একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্রসূতির পেট কেটে শিশুর জন্ম দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির ইতিহাস বহু পুরনো এবং এর উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা মিথ ও বিভ্রান্তি।

প্রচলিত একটি কথা আছে যে, এর নাম এসেছে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অস্ত্রোপচার থেকে। তবে এই ধারণাকে বেশিরভাগ ইতিহাসবিদই সঠিক মনে করেন না।

কারণ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আগে সিজারিয়ান অপারেশন প্রায় সব ক্ষেত্রেই মায়ের জন্য প্রাণঘাতী ছিল এবং সাধারণত মৃত নারীর শরীরেই এটি করা হতো।

অথচ জুলিয়াস সিজারের মা অরেলিয়া কোটা জুলিয়াস সিজারের জন্মের পরও বহু বছর জীবিত ছিলেন এবং তার জীবনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

তাহলে সি-সেকশন ও জুলিয়াস সিজারের মধ্যে সম্পর্কের এই ধারণা কীভাবে তৈরি হলো?

সি-সেকশন কী? কখন করা হয়?

সিজারিয়ান সেকশন বা সি-সেকশন নামের এই অস্ত্রোপচার পদ্ধতির মাধ্যমে মায়ের পেট ও জরায়ু কেটে শিশুর জন্ম দেওয়া হয়।

এই কাটাটি সাধারণত পেটের নিচের দিকে, বিকিনি লাইনের ঠিক নিচে করা হয়।

মূলত, স্বাভাবিক প্রসব মা বা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলে জরুরি অবস্থায় সি-সেকশন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী নিচের কারণগুলো ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শে সিজারিয়ান করা যেতে পারে–

  • শিশু উল্টো অবস্থানে (পা আগে) থাকলে এবং ডাক্তার বা ধাত্রী পেটে হালকা চাপ দিয়ে তাকে ঘোরাতে না পারলে, বা তারা ঘোরানোর চেষ্টা করুক- মা যদি এটা না চায়
  • প্লাসেন্টা (গর্ভাবস্থায় মায়ের জরায়ুর ভেতরে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী অঙ্গ) নিচের দিকে থাকলে (প্লাসেন্টা প্রিভিয়া)
  • গর্ভাবস্থাজনিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে (প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া)
  • প্রসূতি মায়ের যদি কোনো সংক্রমণ থাকে, যেমন- গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রথমবার জেনিটাল হারপিস হলে বা চিকিৎসা না করা এইচআইভি থাকলে
  • শিশু পর্যাপ্ত অক্সিজেন বা পুষ্টি না পেলে দ্রুত প্রসব করানো প্রয়োজন হতে পারে
  • প্রসব প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না এমন পরিস্থিতি বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে
  • সাধারণত প্রথম প্রসব সি-সেকশন পদ্ধতিতে হলে

এর বাইরেও আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

তবে অনেকেই আছে, যারা প্রয়োজন না থাকলেও নিজের ইচ্ছায় সিজারিয়ান করতে চান।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রসব নিয়ে কোনো প্রসূতি মায়ের ভয় বা উদ্বেগ থাকলে তাকে পরিকল্পিত সিজারিয়ানের সুযোগ দেওয়া উচিত।

পরিকল্পিত (ইলেকটিভ) সিজারিয়ান সাধারণত গর্ভাবস্থার ৩৯তম সপ্তাহের পর করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রসবের সময় ব্যথার ভয় ছাড়াও কিছু সংস্কৃতিতে আবার বিশ্বাস করা হয়, নির্দিষ্ট দিন বা তারিখে জন্ম নিলে শিশুর ভবিষ্যৎ ভালো হবে। সেই কারণে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্মের সময় নির্ধারণের প্রবণতাও দেখা যায়।

অনেক দেশে "নিখুঁত" প্রসবের সামাজিক চাপও রয়েছে। স্বাভাবিক প্রসবে কোনো জটিলতা হলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেও অনেক সময় চিকিৎসকরা সিজারিয়ানকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নেন।

এছাড়া, কিছু সমাজে এমন ধারণাও প্রচলিত আছে যে এই পদ্ধতি পেলভিক ফ্লোরের ক্ষতি কমায়, ফলে প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা কম হয় এবং যৌনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক হয়।

বিভিন্ন সংস্কৃতিতে সিজারিয়ান অপারেশনের গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানব সেবা বিভাগের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ (এনআইএইচ) পরিচালিত বৈজ্ঞানিক ডাটাবেজ ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের (এনএলএম) 'সিজারিয়ান সেকশন: আ ব্রিফ হিস্ট্রি' শীর্ষক অনলাইন প্রদর্শনীতে ওই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সিজারিয়ান অপারেশন প্রাচীনকাল থেকেই মানব সংস্কৃতির অংশ।

পশ্চিমা সংস্কৃতির বাইরে অন্যান্য সংস্কৃতিতে এমন গল্প পাওয়া যায়, যেখানে উল্লেখ আছে যে এই সি-সেকশন পদ্ধতিতে মা ও শিশু দু'জনেই বেঁচে গেছেন।

গ্রিক পুরাণে বলা হয়, দেবতা অ্যাপোলো তার মায়ের পেট কেটে চিকিৎসাবিদ্যার প্রতীক আস্ক্লেপিয়াসকে বের করেন।

প্রাচীন হিন্দু, মিশরীয়, গ্রিক, রোমান এবং ইউরোপীয় লোককথাতেও সিজারিয়ান অপারেশনের উল্লেখ রয়েছে।

প্রাচীন চীনের কিছু খোদাইচিত্রে জীবিত নারীর ওপর এই অপারেশন দেখানো হয়েছে।

ইহুদি ধর্মগ্রন্থ মিশনাগোথ ও তালমুদে উল্লেখ আছে যে যদি যমজ শিশু সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্মায়, তবে জ্যেষ্ঠ সন্তানের বিশেষ অধিকার প্রযোজ্য নয়, এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের জন্য শুদ্ধিকরণ আচারও মওকুফ করা হয়।

জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে সম্পর্ক মিথ নাকি সত্য?

সিজারিয়ান অপারেশনের প্রাচীন ইতিহাস এখনো অনেকটাই মিথ বা রহস্যে আচ্ছাদিত এবং এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, বলছে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন।

এমনকি "সিজারিয়ান" শব্দটির উৎপত্তিও সময়ের সঙ্গে বিকৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

অনেকেই মনে করেন, এটি জুলিয়াস সিজারের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু তা সম্ভবত সঠিক নয়। কারণ তার মা অরেলিয়া বহু বছর বেঁচে ছিলেন। সে সময় এই অপারেশন সাধারণত মৃত বা মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের ওপরই করা হতো এবং সেটা করা হতো শিশুকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে।

জুলিয়াস সিজারের সময়কার রোমান আইনে বলা ছিল, যেসব নারী প্রসবের সময় মারা যান বা মারা যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকেন, তাদের পেট কেটে শিশুকে বের করতে হবে।

ধারণা করা হয়, ওই আইন থেকেই 'সিজারিয়ান' নামটি আসতে পারে।

এছাড়া, নামটির আরও কিছু সম্ভাব্য ল্যাটিন উৎস রয়েছে। যেমন, ল্যাটিন শব্দ কাইদারে (কাটা) বা কেইজনিস (যেসব শিশু মায়ের মৃত্যুর পর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয়, তাদের বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার হতো) শব্দ থেকেও এর উৎপত্তি হতে পারে।

তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, এই নামটি কোথা থেকে এসেছে।

ষোড়শ-সপ্তদশ শতক পর্যন্ত এটি 'সিজারিয়ান অপারেশন' নামে পরিচিত ছিল। পরে ১৫৯৮ সালে জ্যাক গুইলিমোর ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক বই প্রকাশের পর 'সেকশন' শব্দটি জনপ্রিয় হয়।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের অর্থ ও উদ্দেশ্য বদলেছে।

প্রাচীন সিজারিয়ান: মাকে নয়, উদ্দেশ্য শিশুকে বাঁচানো

প্রাচীনকালে সিজারিয়ান অপারেশন মূলত মৃত বা মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের শরীর থেকে শিশুকে বের করার জন্য করা হতো, মাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নয়। এটি ছিল একেবারে শেষ উপায়।

উনিশ শতকের আগে এই অপারেশনে মায়ের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

তবে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনার কথাও পাওয়া যায়।

১৫০০ সালের দিকে সুইজারল্যান্ডে জ্যাকব নুফার নামে একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীর ওপর সিজারিয়ান অপারেশন করেন, কারণ বহুদিন প্রসব যন্ত্রণা চলার পরও সন্তান জন্ম হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করা সেই অপারেশনের পর মা ও শিশু দুজনেই বেঁচে যান বলে উল্লেখ আছে।

এমনকি ওই নারী পরে আরও পাঁচটি সন্তানের জন্ম দেন। যদিও এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

সিজারিয়ান অপারেশনের ইতিহাস আসলে প্রসব ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামগ্রিক ইতিহাসের অংশ। প্রথম দিকের কিছু সফল অপারেশন হয়েছিল গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে চিকিৎসা সুবিধা কম ছিল। তাই সেখানে অনেক সময় প্রসূতি মা প্রসব করতে ব্যর্থ হওয়ার আগেই অপারেশন করা হতো, ফলে মা ও শিশুর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তো।

সে সময় অপারেশন হতো ঘরের টেবিল বা বিছানায়, হাসপাতালে নয়।

আর উনিশ শতকের আগে হাসপাতালগুলোতেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি ছিল, কারণ চিকিৎসাকর্মীদের হাত পরিষ্কার না থাকার কারণে রোগ ছড়াতো।

ধীরে ধীরে অ্যানাটমি বা মানবদেহের গঠন সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বাড়তে থাকে। ১৫৪৩ সালে অ্যান্ড্রিয়াস ভেসালিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ 'দে করপোরিস হিউম্যানি ফ্যাব্রিকা' মানবদেহের গঠন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে। এরপর অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে এই জ্ঞান আরও বিস্তৃত হয় এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারকে ধীরে ধীরে নিরাপদ করে তোলে।

তবে সে সময় চিকিৎসাশিক্ষা মূলত পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সপ্তদশ শতক থেকে ধীরে ধীরে পুরুষ চিকিৎসকরা প্রসববিদ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন।

ইংল্যান্ডের চেম্বারলেন পরিবার প্রসবের সময় ব্যবহৃত ফোর্সেপ্স (চিমটার মতো যে যন্ত্র অপারেশনের সময় ব্যবহৃত হয়) আবিষ্কার করে। এর মাধ্যমে পুরুষ চিকিৎসকরা ধাত্রীদের (মিডওয়াইফ) জায়গা দখল করতে থাকেন।

পরবর্তী কয়েক শতকে ধীরে ধীরে প্রসব ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা কমে যায় এবং চিকিৎসা পেশা পুরুষদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এখন এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।

সিজারিয়ান: প্রয়োজন না অতিরিক্ত ব্যবহার?

অনেক ক্ষেত্রে সিজারিয়ানকে জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি বলা হয়।

তবে একইসঙ্গে এটি একটি বড় অপারেশন, তাই এর কিছু ঝুঁকিও থাকে।

কারণ যেকোনো বড় সার্জারির মতো এ ক্ষেত্রেও একজন মানুষের সেরে উঠতে সময় লাগে।

এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, একদম অপরিহার্য বা স্বাস্থ্যগতভাবে অত্যাবশ্যক না হলে সিজার করা উচিত নয়। তাদের মতে, যে কোনো দেশে সিজারিয়ান প্রসব মোট প্রসবের ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকা উচিত।

তবে বাস্তবে অনেক দেশেই এই হার বেশি। কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারের কারণেই ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এখনো বিভিন্ন দেশে সিজারিয়ানের সময় মাতৃমৃত্যুর ঘটনাও ঘটে, বিশেষ করে যখন এটি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া করা হয়।

স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অনেক দেশে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার অনেক কম, কারণ সেসব দেশের প্রথা স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য বলছে, দেশটিতে প্রতি চারজন গর্ভবতী নারীর মধ্যে প্রায় একজন সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।

আর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মোট প্রসবের প্রায় ৩০ শতাংশই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হয়।

চীনে একসময় সিজারিয়ানের হার বেশি থাকলেও, ২০০১ সালে স্বাস্থ্যনীতিতে পরিবর্তন এনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তা কমানোর চেষ্টা করছে।

তবে ব্রাজিলের মতো অনেক দেশে এখনো স্বাভাবিক প্রসবের হার কমছে।

বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মোট প্রসবের প্রায় ৭৯ শতাংশই এখন সিজারিয়ানের মাধ্যমে হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিজারিয়ান মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কার্যকর হলেও অপ্রয়োজনীয় সিজারে কোনো বাড়তি উপকার নেই।

বরং, এতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি থাকে, যা ভবিষ্যৎ গর্ভধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।