ভারতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ আজ

ছবির উৎস, Aryan Mahatta/BBC
- Author, প্রত্যুষ রায়
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
- Published
- পড়ার সময়: ৮ মিনিট
আজ শনিবার ১০ই অক্টোবর 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওই বিক্ষোভে বামপন্থি ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোসহ অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী সংগঠনেরও যোগ দেওয়ার কথা।
শুধু রাজধানী দিল্লি নয়, ভারতের অন্যান্য বহু অঞ্চল থেকেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে বলে দাবি করা হচ্ছে সিজেপির পক্ষ থেকে।
মাত্রই কয়েক মাস আগে সামাজিক মাধ্যমের ক্যাম্পেইন চালিয়ে গজিয়ে ওঠা এই দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে সারা দেশে তাদের অন্তত হাজার দশেক সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এরকম ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যে ট্রেনে চেপে দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসার সময়ে আটক করা হচ্ছে নারী-পুরুষদের।

ছবির উৎস, Aryan Mahatta/BBC
শনিবারের বিক্ষোভের আগে এক সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই বছরের জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা বিক্ষোভ, যা ছিল সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে, সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বহু ছাত্র যুব।
সেই আন্দোলনের মুখ্য প্রেক্ষাপট ছিল সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার দাবি। তবে এবার দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবি নিয়ে পথে নামছেন তারা।
নয়ই অক্টোবর রাতে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের কাছ থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও তরুণ যুবদের আন্দোলনে আসতে অনুরোধ করে বার্তা দেন।
যন্তর মন্তরে গতবার অভিজিৎ দীপকে ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তবে এবার দোসরা অক্টোবর থেকেই দিল্লি পুলিশের আচরণ ছিল একেবারে ভিন্ন। কোনো প্রকার জমায়েতই যন্তর মন্তরে সংগঠিত হতে দিতে চায়নি প্রশাসন।

ছবির উৎস, PTI/screengrab
যন্তর মন্তরে আসতে শুরু করেছেন তরুণরা
যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও আগের দিন থেকেই আন্দোলনে অংশ নিতে এই স্থানে আসতে শুরু করেছেন বহু তরুণ।
যদিও বিক্ষিপ্তভাবে আগত এই তরুণদের সেখানে কোনো ধরণের জমায়েত করা থেকে বিরত রেখেছে দিল্লি পুলিশ। আসা মাত্রই তাদের এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পার্লামেন্ট স্ট্রিটে উপস্থিত এক তরুণ বিবিসি হিন্দিকে বলেন, "রাজা ভয় পাচ্ছে তাই সান্ত্রীকে এগিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই দেশের তরুণরা আর পিছু হঠবে না। এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।"
যন্তর মন্তর চত্বরে মাঝরাতের পরেই বিক্ষিপ্তভাবে ওই স্থানে আগত বিক্ষোভকারীরা ঢোকার চেষ্টা করেন। যদিও সারা রাত বিশাল পুলিশবাহিনী ওই অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। শুধু জমায়েত না, কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই স্থানে এলেও পুলিশ তাকে সরিয়ে দিয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত দুটো নাগাদ যন্তর মন্তরে হাজির ছিলেন বিবিসি নিউজ হিন্দির প্রতিনিধি শুভ রানা। তাকেও সেখান থেকে চলে যেতে বলেন দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য ছিল, গণমাধ্যমের উপস্থিতি দেখে মানুষজন জমায়েত হতে সাহস পাচ্ছেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, ANI
বিক্ষোভ দমন করতে মাঠে বজরং দল?
গত দুই দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি উঠে এসেছিল যে, ককরোচ পার্টির বিরুদ্ধে লড়াই করতে যন্তর মন্তরে হাজির হবেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সদস্যরাও।
সেসব পোস্টে বলা হয়েছে, "উত্তর প্রদেশ থেকে লাখে লাখে রাষ্ট্রবাদী জনগণ ওই দিন যন্তর মন্তরে সিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে।"
কিন্তু তারপরে বজরং দল এই দাবি খারিজ করেছে। তারা এক্স-এ একটি পোস্ট করে জানিয়েছে, "বজরং দল কোনও প্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করা সমর্থন করে না।"
তবুও শনিবার যে যন্তর মন্তরে কিছু হিন্দুত্ববাদী জনতা ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপস্থিত থাকতে পারেন, এই আশঙ্কা করে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন।

ছবির উৎস, ANI
বিক্ষোভ দমন করতে তৎপর প্রশাসন
এই বিক্ষোভের এক দিন আগে দিল্লি পুলিশ একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। মেট্রো, ট্রেন, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে ও মাইকিং করে জমায়েত না করার অনুরোধ করে তারা।
দোসরা অক্টোবর থেকে ছোট-বড় বিভিন্ন বিক্ষোভ এই অঞ্চলে হলেও নয়ই অক্টোবর সারাদিনই যন্তর মন্তর চত্বরে ছিল থমথমে ভাব।
দিল্লি পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর সদস্যদের জড়ো হতে দেখা গেছে সারাদিনই, গাছে গাছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিকার লাগাতে দেখা যায় তাদের।
তবে শনিবার কোনো বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে হাজির হন নি।
পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অবশ্য ছিল সাজো সাজো রব। পুলিশকর্মীদের সেখানে বার বার বৈঠক করতে দেখা যায়।
নয় তারিখ সন্ধ্যায় এই এলাকা সংলগ্ন বাজার অঞ্চলগুলিতে ১০ তারিখ দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নয়ই অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
সারা রাত দিল্লির কাপাসহেরা সীমান্ত ও অন্যান্য সমস্ত সীমান্ত দিয়ে দিল্লির ভিতরে ঢোকা গাড়িগুলিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ছবির উৎস, ANI
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ইন্ডিয়া ব্লক নেতাদের
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে নয়ই অক্টোবর দিল্লির বিজয় চকে একটি স্বল্পমেয়দি বিক্ষোভ ধর্ণা প্রদর্শন করেন কংগ্রেস নেতারা।
এই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। হাজির ছিলেন ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-সহ ইন্ডিয়া ব্লকের বহু নেতা নেত্রী।
রাত আটটা নাগাদ সংসদ ভবনে তারা বৈঠক করেন ও তাদের দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে যান।
ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা ব্যানার্জী বলেন, "স্মৃতিতে থেকে যাওয়ার মতো একটি সাক্ষাৎ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন গোটা বিষয়টি তদন্ত করবেন।"
রাহুল গান্ধী বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন ও আমাদের জানিয়েছেন যে ভোট চুরির প্রমাণ নিয়ে আসতে। আমরা আনন্দের সঙ্গে তার কাছে প্রমাণ নিয়ে হাজির হতে রাজি।"
"আমি প্রথমে ভেবেছিলাম রাষ্ট্রপতি ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করবেন, কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি এই দেখে যে তিনি ব্যাপারটি নস্যাৎ না করে আমাদের থেকে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন।"
সিজেপির ১০ তারিখের বিক্ষোভ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আজকের বিক্ষোভে যোগদান করবেন না তিনি।

ছবির উৎস, ANI
বাতিল দিল্লিগামী ট্রেন, বন্ধ মেট্রো
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিল্লির দিকে রওনা হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটক করার অভিযোগ করেছে সিজেপি।
শুক্রবার নয়ই অক্টোবর সকালেই রেলের সদর দফতর থেকে ভারতের সব রেলওয়ে জোনের কাছে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ পাঠানো হয় বলে খবর প্রকাশ করে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
সেই নির্দেশিকায় বলা হয়, যে ট্রেনগুলি উৎস স্টেশন থেকে দুপুর দুটোর পর ছেড়ে যাবার কথা ও দিল্লির হজরত নিজমুদ্দিন ও নিউ দিল্লি স্টেশনে পৌঁছানোর কথা শনিবার ভোর চারটে থেকে দুপুর দুটোর মধ্যে, সেই সব ট্রেন বাতিল করতে হবে।
কারণ হিসেবে বলা হয়, ১০ই অক্টোবর মধ্য দিল্লিতে সম্ভাব্য জটিল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
এই নির্দেশিকা রেলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, কিন্তু ইতিমধ্যেই মুম্বই ও কলকাতা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিলের খবর এসেছে। নির্দেশ মেনে আরও বহু ট্রেন বাতিল করেছে ভারতের একাধিক রেলওয়ে ডিভিশন।
দিল্লির নিউ দিল্লি ও হজরত নিজমুদ্দিন স্টেশনদুটি হলো দিল্লি শহরের ব্যস্ততম দুটি স্টেশন। মূলত দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে দিল্লি শহরে প্রবেশ করা ট্রেনগুলি হজরত নিজমুদ্দিন স্টেশনে যাত্রা শেষ করে।
অন্যদিকে উত্তর ও পূর্ব ভারত থেকে আসা ট্রেনগুলি নিউ দিল্লি স্টেশনে যাত্রা শেষ করে।
উভয় স্টেশন থেকেই যন্তর মন্তর পৌঁছানো সহজ। এছাড়াও নয়ই অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলন করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মোট ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সুপারিশ জানানো হয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে।
দিল্লিগামী ট্রেন ও দিল্লি মেট্রো পরিষেবা যাতে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছে, পরিষেবাগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে যেন চালু রাখা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের কোনো অসুবিধা না হয়।
তবুও নয় তারিখ রাত নয়টা থেকে কার্যকর হয়েছে মেট্রো বন্ধ রাখার নির্দেশিকা।
তুলনা টানলে দেখা যায়, গত জুলাই মাসে সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই সময়ে মাত্র ১২টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ছবির উৎস, Arun SANKAR / AFP via Getty Images
ককরোচ-সমর্থকদের দিল্লি আসতে বাধা
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, ভারতের দুই তেলুগুভাষী রাজ্য তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ ফিতে রওনা হওয়া যুবকদের মধ্য প্রদেশ রাজ্যে আটকানো হয়েছে।
তাদের ট্রেন মধ্য প্রদেশে প্রবেশ করার পরে রেল পুলিশ ট্রেনে উঠে তাদের নামিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
গোয়া থেকেও দিল্লি রওনা হওয়া সিজেপি সমর্থকদের মধ্য প্রদেশের ইটারসি স্টেশনে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় ও আটক করা হয় বলে অভিযোগ।
এই সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে অভিজিৎ দীপকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। তিনি বলেন, "৫৬ ইঞ্চি ছাতির মহামানব ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন, তিনি বরং এখন রক্তচাপ মাপতে থাকুন।"
পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সিজেপি সমর্থকদের শিয়ালদহ স্টেশন থেকে আটক করে বিধাননগর পুলিশ স্টেশনে নিয়ে ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গে সিজেপির নেতা আবদুল হাফিজ। বাঁকুড়ার আবদুল হাফিজ তার জেলায় স্কুলের অবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন।
সিজেপির সহ-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পুলিশকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, "আমরা জানি, এই সময়ে আপনাদের দিয়ে যা-ই করানো হচ্ছে, তা ওপরমহলের নির্দেশেই হচ্ছে। কিন্তু আপনারা কীভাবে আমাদের সন্তানদের ওপর এভাবে হাত তুলতে পারেন? কীভাবে সাধারণ গুণ্ডা-বদমায়েশদের মতো রাতের অন্ধকারে তাদের তুলে নিয়ে যেতে পারেন?"
"আপনাদের বিবেক কি এর সায় দেয়? এসব কাজ করতে গিয়ে কি আপনাদের নৈতিকতা আহত হচ্ছে না? এরা যদি আপনাদের নিজেদের সন্তান হতো, তবে কি আপনারা তাদের সাথে এমন আচরণই করতেন?"
"এমনকি ব্রিটিশ আমলেও এমন কিছু পুলিশ সদস্য ছিলেন যারা নিজেদের দেশবাসীর ওপর গুলি চালিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তারা কেবল তাদের কর্তব্য পালন করছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, জাতি আজও সেই পুলিশ সদস্যদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই গণ্য করে।"
অবশ্য পুলিশের তরফে এই দমনপীড়নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, "যে কোনও প্রকার নৈরাজ্য ঠেকাতে তৎপর দিল্লি পুলিশ।"

ছবির উৎস, PTI/screengrab
কাশ্মীর, ছত্তিসগড় থেকে দিল্লিতে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী
এছাড়াও ভারত শাসিত কাশ্মীর হোক বা মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিসগড় - সেই সব জায়গা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিপুল সংখ্যায় দিল্লি নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম। তবে তাদের সংখ্যা কত, তা নিয়ে সংবাদগুমাধ্যমগুলি আলাদা আলাদা দাবি করলেও সেটা ২৩ হাজারের বেশি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন রাত থেকে যন্তর মন্তর ও তার তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পুলিশ নিয়মিত মাইকিং করে জানাচ্ছে যে ভারত ন্যায় সংহিতা বা বিএনএসের ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকার কারণে এই অঞ্চলে রকম জমায়েত নিষিদ্ধ।
অশোকা রোড, সংসদ মার্গ, কর্তব্য পথ, জনপথ এই অঞ্চলে দিল্লি পুলিশের বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জুলাই মাসে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে বিক্ষোভের সময়ে, শুরুর দিকে দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দেয়নি। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে অক্টোবর মাসের ২ তারিখ থেকেই যে কোনও রকম জমায়েত করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেছে দিল্লি পুলিশ।

ছবির উৎস, ANI
কী বক্তব্য দিল্লি পুলিশের?
দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, "সাত তারিখে তারা জানান যে তারা সিইসি-র জবাবদিহিতার দাবিতে ১০ তারিখে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে আসছেন। তারা নয়াদিল্লি জেলা আদালতে একটি আবেদন জমা দেন। এই বিজ্ঞপ্তিটি খতিয়ে দেখা হয় এবং তা বিবেচনা করে আরও তদন্ত করা হয়।"
অনুমতি না দেওয়ার দুটি কারণ ব্যাখ্যা করে মিজ. প্রসাদ জানান, "প্রথমত, এটি খুব কম সময়ের নোটিশে জানানো হয়েছিল, আমাদের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা অনুযায়ী বিক্ষোভের ১০ দিন আগে এই তথ্য জানানোর কথা, যা করা হয়নি।"
"দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভ করার জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমতি পাওয়ার সময়ে তাদের পূর্ববর্তী আচরণ মূল্যায়ন করে দেখা যায় যে, তারা তাদের দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করেননি এবং তা অমান্য করেছিলেন।"
"এছাড়াও, তারা সেই সময়ে প্রদত্ত সমস্ত আইনি নির্দেশিকা অনুসরণ করেননি। এই সমস্ত কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে, এবং বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি, অন্যান্য সংগঠনের প্রকাশ্য আহ্বান এবং ট্রাফিক নিয়মাবলী বিবেচনা করে, এই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।"









